বাংলাদেশকে 'খুব প্রিয়' বলেছেন বান কি মুন : মনি

 
"জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুনের সঙ্গে কথা বলে তার অটোগ্রাফ নিয়েছি। তিনি জিজ্ঞেস করেছেন, কোথা থেকে এসেছ? বলেছি, বাংলাদেশ থেকে। উনি বলেছেন, 'বাংলাদেশ তো আমার খুব প্রিয়'।"
 
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুনের অটোগ্রাফ আনতে গিয়ে তার কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রতি এমনটাই শুনে এলেন জাতিসংঘের অধিবেশন থেকে ফেরা স্কুলছাত্রী মনি বেগম।
 
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী মনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগ দিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন। একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী পদ্ধতির মাধ্যমে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
 
রবিবার রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে 'সেভ দ্য চিলড্রেন' আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে এবং মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে অধিবেশনে তিনি প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমি একটা কথাই শিখে এসেছি যে, শিশুরাই পারবে। তবে বড়দের তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। যদি ছোট-বড় সবাই মিলে মতামত দিয়ে কাজ করা হয় তাহলে শিশু মৃত্যু, বাল্য বিয়ে বন্ধে সমাধান আসবে।'
 
বান কি মুন ছাড়া যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, কলাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হোয়ান ম্যানুয়েল স্যান্ডসসহ বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রখ্যাত ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান তিনি। বাল্যবিয়ে বন্ধে ‘তাকে বেড়ে উঠতে দাও(লেট হার গ্রো)’ শ্লোগানের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে কাজ করছেন মনি বেগম।
 
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাল্যবিয়ে বন্ধ ও মেয়েদের শিক্ষা বিস্তারের পক্ষে কাজ করতে চান বলে জানান তিনি। মনি বলেন, 'আমি চাই কোনো এলাকায় বাল্যবিয়ের নাম উচ্চারণ হবে না। মেয়েদের পড়ালেখার জন্য কাজ করতে চাই। বাবাদের বুঝাতে হবে, যে টাকায় বিয়ে দিতে চান, সে টাকা দিয়ে পড়ালেখা করান।'
 
সেভ দ্য চিলড্রেনের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও এইচআইভি/এইডস বিষয়ক পরিচালক ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেন, 'উন্নয়নশীল দেশগুলোর লক্ষ লক্ষ শিশুর প্রতিনিধি হিসেবে মনি বেগম অধিবেশনে কথা বলে এসেছে। মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে তার মধ্যে যে সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে সেটি সে তার চারপাশে ছড়িয়ে দেবে। এখানে মনি বেগম ও মালালার কাজে মিল আছে। 'শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। এরকম মনি বেগমরাই দেশকে পাল্টে দিতে পারে।" বিডি নিউজ।