গোমাংস বিতর্কে ক্ষুব্ধ বিজেপি হাইকমান্ড

 
ভারতে গরুর মাংস নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ক্ষুব্ধ করেছে। মোহাম্মদ আখলাক নামের একজনকে গুজব সৃষ্টি করে পিটিয়ে হত্যার পর বিজেপির যেসব নেতা বিতর্কিত মন্তব্য করেছে রবিবার তাদের ডেকে পাঠান দলের সভাপতি অমিত শাহ।
 
এ ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে নেতাদের সতর্ক করেছেন অমিত শাহ। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর মনোভাবের কথাও তাদের জানিয়ে দেন বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো।
 
ডেকে পাঠানোদের মধ্যে রয়েছেন, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাত্তার, ইউনিয়ন মন্ত্রী মহেশ শর্মা, পার্লামেন্ট সদস্য সঙ্গীত সোম এবং দলটির বিতর্কিত নেতা সাক্ষি মহারাজ।
 
তবে রুটিন বৈঠকের অংশ হিসেবেই বিজেপির শীর্ষ কমান্ডের সাথে দেখা করেছেন বলে দাবি করেছেন কয়েক জন। সাক্ষি মহারাজ বলেন, 'আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে আমি এসেছি। বৈঠকে আমার কোন বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়নি। তবে বৈঠকে নির্দিষ্ট কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রত্যেক ক্রিয়ারই প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আমি ক্রিয়া করেছি বলেই বৈঠকে প্রতিক্রিয়া ছিল।'
 
চলমান ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতার সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলো। রাষ্ট্রীয় ও সমাজ জীবনে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও নেতাদের সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের প্রতিবাদে দেশটিতে ইতিমধ্যে ৪২ জন লেখক সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার ফেরত দিয়েছেন।
 
দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈরিতা ত্যাগ করতে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি আহ্বান জানানোর পরদিন মুম্বাইয়ে এ নিয়ে গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো মুখ খোলেন মোদী। একটি সমাবেশে দেয়া ভাষণে তিনি কোন পক্ষাবলম্বন না করে বলেন, 'হিন্দু মুসলমানদের একে অপরের সঙ্গে নয় বরং দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা উচিৎ।'
 
বিজেপির বিতর্কিত নেতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'রাজনীতি ও ক্ষুদ্র স্বার্থে কেউ কেউ দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলছেন। তাদেরকে গুরুত্বের সাথে নেয়ার কিছু নেই। এমনকি নরেন্দ্র মোদী নিজেও যদি এমন কিছু বলেন আপনারা তার কথা শুনবেন না।' সূত্র: এনডিটিভি