বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কঠোর সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এটা তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) পলিসি, আপনারা যতই চেষ্টা করেন না কেন, এটা খুব বেশি পরিবর্তন হবে বলে আমার মনে হয় না। গত সাত বছর ধরে ইউএসএ একই পলিসি কনটিনিউ করছে, ইটস নট এ ম্যাটার ইন দি কান্ট্রি। রবিবার সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে আওয়ামী লীগ সরকার সরানোর পর তাতে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল ওয়াশিংটন। ৫ জানুয়ারির বিএনপিবিহীন নির্বাচনকেও ভালো চোখে দেখেনি তারা। তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ মন্ত্রীদের কয়েকজন ওয়াশিংটনের কড়া সমালোচনা করতে গিয়ে দেশটির ১৯৭১ সালের ভূমিকাও তুলে এনেছিল। বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা দেওয়া নিয়েও ঢাকা-ওয়াশিংটনের মন কষাকষি রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সরাসরিই বলছেন, রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা দিচ্ছে না।
বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন এই নীতি স্পষ্ট না করলেও মুহিত মনে করেন, তাদের অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। তিনি বলেন, তবে এতে আমরা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিও না।… এটা নিয়ে হৈ চৈ করারও কিছু দেখি না।
বাংলাদেশে দুই বিদেশি খুনের ঘটনার কথা বলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জঙ্গি হামলা, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বললেন, 'নিউ ইয়র্কে প্রতিদিন কতজন বাঙালি মারা যায়, সেটা হিসাব করেন। মানুষ হত্যা, বিশেষ করে সিটিতে হত্যার রেকর্ড হোল্ডার হল ইউনাইটেড স্টেটস। এভরিহোয়ার ইট হ্যাপেন্ড, ল অ্যান্ড অর্ডারে প্রবলেম থাকে। বাংলাদেশে ল অ্যান্ড অর্ডার ইজ ওয়ানডারফুল।'
অর্থনীতির বিষয়ে মুহিত বলেন, 'আমাদের জিডিপি প্রৃবদ্ধি সাতের কাছাকাছি বললেও আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক সব সময় তা কম বলে প্রচার করে আসছিল। কিন্তু এখন তারাই বলছে এটা ৬ দশমিক ৮ হবে।' রাজনৈতিক অস্থিরতা এখন না থাকায় একে ‘ভালো বছর’ বলছেন তিনি। বিডি নিউজ।