আয় বৈষম্য হ্রাসে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি ২৯ লাখ লোকের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এই সময়ে শ্রমশক্তিতে বা কর্মবাজারে ৯৯ লাখ তরুন-তরণী আসবে। যেহেতু কর্মবাজারে আসা লোকের চেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হবে। তাই বেকার লোকের সংখ্যা কমে আসবে।
অন্যদিকে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ দারিদ্রতা কমিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এতে ২০২০ সালে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হার ১৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে। একইসাথে পুরো পাঁচ বছরব্যাপী বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী পালন করবে বাংলাদেশ। আর ২০২০ সালে বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্রটি কেমন হবে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকগুলো কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, এ সব লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া দলিল চূড়ান্ত করেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এ দলিলটি পাসের জন্য ওঠানো হবে।
পরিকল্পনায় মেয়াদকালের প্রথম বছরে চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে বাড়লে ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা ৮ শতাংশে উন্নীত হবে। ২০২০ সাল নাগাদ সেবা ও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও কৃষি খাতে তা কমে আসছে। সে ক্ষেত্রে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ক্রমান্বয়ে কমবে, উৎপাদন খাতের অবদান বাড়বে।
সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে খরচ হবে ৩১ লাখ ৯০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করবে। বাকী ৯ দশমিক ৬ শতাংশ আসবে বৈদেশিক উৎস্য থেকে।
অর্থনীতির চাকা আরো জোর গতিতে ঘুরাতে ৫ বছরে সরকার ৭ লাখ ২৫ হাজার ২০০ কোটি এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ২৪ লাখ ৬৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলে পরিকল্পনায় লক্ষ্য নির্ধারন করা হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে জিডিপি ও রাজস্বের অনুপাত বৃদ্ধি করা হবে। ২০২০ সালে এ অনুপাত দাঁড়াবে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। এখন এ অনুপাত প্রায় ১১ শতাংশ।
সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরে দেশে নতুন করে ১২ হাজার ৫৮৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এর মধ্যে সরকারি খাত থেকে ৭ হাজার ৬৮২ মেগাওয়াট ও বেসরকারি খাতে ৪ হাজার ৯০২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বেসরকারি বিনিয়োগে বড় আকারের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কথা বলা হয়েছে পরিকল্পনার খসড়ায়।
পরিকল্পনা মেয়াদকালে পদ্মা সেতু ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হবে। এছাড়া গভীর সমুদ্রবন্দর, মেট্রো রেল, এলএনজি টার্মিনাল পায়রা সমুদ্রবন্দরের মতো বড় প্রকল্পে বিনিয়োগকেই প্রাধান্য দেয়ার কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনার খসড়া দলিলে পাঁচ বছরে এক কোটি ২৯ লাখ লোকের কর্মসংস্থান তৈরির যে লক্ষ্য নেয়া হয়েছে, তার মধ্যে দেশে কর্মসংস্থান হবে এক কোটি ৯ লাখের, বাকী ২০ লাখ জনশক্তি বিদেশে রফতানি করা হবে। বাসস।