দেশের গুণী নির্মাতা সুদীপ কুমার। ‘এক টাকার বউ’ খ্যাত এই নির্মাতা-প্রযোজক দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ফিরলেন চলচ্চিত্র নির্মাণে। চলতি সময়ের ব্যস্ততা ও বর্তমানে দেশিয় চলচ্চিত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিনোদন প্রতিদিনের সাথে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মারুফ রহমান
চলতি সময়ের কাজের ফিরিস্তি একটু শুনতে চাই-
বর্তমানে আমি ‘ন্যায় বিচার’ শিরোনামের একটি চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। আমার পরিবারে পাঁচজন চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত। আর এই নতুন চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করবেন আমার বাবা প্রদীপ দে। চলচ্চিত্রটির মহরত শেষ, ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে শুটিংয়ের কাজ।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চলচ্চিত্র পরিচালনায় আপনি, এ প্রসঙ্গে কি বলবেন?
প্রায় তিন বছর পর আমি আবারও পরিচালনায় ফিরেছি। আসলে আমি দীর্ঘ দিন অসুস্থ থাকায় চিকিত্সার জন্য বেশ কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলাম। এখন ভালো আছি সবার দোয়ায়।
বর্তমান চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে কিছু বলেন?
বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্র সম্পর্কে অনেক কিছু বলার আছে আমার। প্রথমেই আমি বলবো সাবানা-সুবর্ণা, রাজ্জাক-আফজাল, আতিকুল হক চৌধুরী ও এ জে মিন্টুর মধ্যে যে তফাত্ সেটাই হচ্ছে বর্তমান সময়ের নাটক ও চলচ্চিত্রের তফাত্। আর এই তফাত্টাই মানুষ এখন ধরতে পারছে না। চলচ্চিত্র বদলায়নি, চলচ্চিত্র তার সৃষ্টির শুরু থেকে যা ছিল তাই আছে। অনেক প্রযুক্তি বদলেছে, ডিজিটাল হয়েছে। কিন্তু তাই বলে এমন হয়নি যে, কেউ নাটকের ধ্যান-ধারণা নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করবে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ভালো একটি ম্যাসেজ দিয়ে দেশ বদলানো সম্ভব, সেক্ষেত্রে ম্যাসেজটি দেশের কোন শ্রেণির মানুষের জন্য প্রযোজ্য সেটাও একজন নির্মাতাকে চিন্তা করে কাজ করতে হয়। বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্রে দেশের দর্শকরা কি ম্যাসেজ পায় সে বিষয়ে আমার প্রশ্ন আছে। এই যেমন আমার চলচ্চিত্র ‘এক টাকার বউ’। প্রশ্ন করতে পারেন বউ কি আর এক টাকার হয়? কারণ যে বউ সে-ই এক সময় মা হয়। তাহলে কি মায়ের দাম এক টাকা? কিন্তু না, আমি এই চলচ্চিত্রটি দিয়ে দেশের এক শ্রেণির মানুষকে যৌতুকের বিষয়ে সতর্ক করেছি। আর এটা ছিল আমার এই চলচ্চিত্রের ম্যাসেজ। বর্তমানে দেশে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে অনেক টেকনিক্যাল সাপোর্ট আছে, কিন্তু চলচ্চিত্রে ভালো গল্প নেই।
যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে কি বলবেন?
এক কথায় আমি এর ঘোর বিরোধী। যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র হচ্ছে হুন্ডি ব্যবসা, এতে করে যে যাই বলুক শিল্পের কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর ব্যবসার কথাই যদি বলি, সেক্ষেত্রে সবচেয়ে লাভবান হয় ওপার বাংলার ব্যবসায়ীরা। আকাশ সংস্কৃতির উন্নয়নে আমরা এখন ওপার বাংলার অনেক অভিনয়শিল্পীদেরই চিনি। আর আমরা হলে গিয়ে তাদের চলচ্চিত্রটি দেখি, কিন্তু কলকাতায় আমাদের টিভি চ্যানেল না থাকায় তাদের দেশের দর্শকরা খুব কমই আমাদের দেশের শিল্পীদের চেনে। সেক্ষেত্রে তারা হলে যাচ্ছে তাদের চলচ্চিত্র শিল্পীদের দেখতে। আর বেশিরভাগ চলচ্চিত্রেই দেখা যায় আমাদের দেশের হয়তো একজন বা দু’জন শিল্পী অভিনয় করছে। তাহলে আপনি কীভাবে বলবেন যে যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র দিয়ে আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়ন হচ্ছে? এতে উন্নয়ন হচ্ছে দেশের এক দু’জন চলচ্চিত্র শিল্পীদের, কিন্তু সামগ্রিকভাবে পিছিয়ে থাকছে আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়ন। তাদের গল্প তাদের শিল্পী, উন্নয়ন হচ্ছে ওপার বাংলার আমাদের নয়।