‘গরুর মাংস খাওয়ার গুজবে হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত’

ভারতে গরুর মাংস খাওয়ার গুজব ছড়িয়ে এক মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনাটি জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত ক্ষোভের কারণে হয়নি বরং এটি ছিল পূর্ব পরিকল্পিত।  দেশটির একটি তদন্ত কমিশনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এই খবর জানিয়েছে বিবিসি।
 
ভারতের রাজধানী দিল্লির অদূরে বিদিশা গ্রামের এ ঘটনায় মোহাম্মদ আখলাককে গরুর মাংস খাওয়ার অভিযোগে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। সম্প্রতি ভারতের সংখ্যালঘু বিষয়ক জাতীয় কমিশন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই  পরিকল্পনায় স্থানীয় একটি মন্দিরকে ব্যবহার  করা হয় বলে জানিয়েছে কমিশন। এর আগে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের এক মন্ত্রী এ ঘটনাকে তাৎক্ষণিক রাগের বশে ঘটে যাওয়া বলে দাবি করেছিলেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতে গরুর মাংস খাওয়া ও পাচারের অভিযোগে তুলে তিন মুসলিমকে হত্যা করা হয়। আখলাকের হত্যাকাণ্ডে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার প্রশ্নে ভারতজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ঘটনা ঘটার পরপরই এর নিন্দা না জানানোয় সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঘটনার দুই সপ্তাহ পর মোদী ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক ও অনাকাঙ্খিত’ বলে মন্তব্য করেন।
 
ঘটনায় প্রকাশ, রাতে নিজের ছেলেকে পাশে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন কৃষক আখলাক। এ সময় উত্তেজিত একদল জনতা লাঠি, তলোয়ার ও পিস্তল নিয়ে তার বাড়িয়ে হামলা চালায়।   আখলাকের পরিবারকে গরু জবাই করে এর মাংস খাওয়ার জন্য অভিযুক্ত করে গ্রামবাসী। আখলাক ও তার ছেলেকে ইট দিয়ে আঘাত, লাথি মারা ও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। গরুর মাংস খাওয়া হয়েছে কিনা প্রমাণ করতে ফ্রিজে থাকা অবশিষ্ট মাংস জব্দ করা হয়। কিন্তু পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় সেগুলো খাসির মাংস। ঘটনাটি ঘটেছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মাসে। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামের মন্দির থেকে মাইকে দেয়া ঘোষণায় বিপুল সংখ্যক মানুষ এসে উপস্থিত হয়। তদন্তকারী দল তাদের প্রতিবেদনে জানান, একটি অসহায় পরিবারের উপর হামলার জন্য একটি সম্প্রদায়ের লোকজনকে জড়ো করে উত্তেজিত করা হয় এবং আখলাক ও তার পরিবারের উপর চালানো পরিকল্পিত এ সহিংসতায় একটি হিন্দু মন্দিরকে ব্যবহার করা হয়।  
 
আখলাকের বাড়িতে গরুর মাংস পাওয়া গেছে মন্দির থেকে এমন ঘোষণায় হামলার উস্কানি তৈরি হয় বলে দাবি করেছেন তদন্তকারী দলের সদস্য খান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ তখন কয়েক মিনিটের মধ্যে এত লোক জড়ো হওয়ার বিষয়টি পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। সংখ্যালঘু বিষয়ক জাতীয় কমিশনের পাশাপাশি ঘটনাটির বিষয়ে পুলিশি তদন্তও চলছে। বিবিসি।