রাজধানীর মতিঝিলে এক বখাটে তরুণের মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত গণপূর্ত বিভাগের হিসাব সহকারী রুনা আক্তারের পরিবারে এখন শুধুই হাহাকার। নিহত রুনার ১ বছর ৮ মাস বয়সের মেয়ে রাইকা এখনও জানে না যে তার মা আর পৃথিবীতে নেই। রুনার ছোট বোন তানিয়া আক্তার বিথীর কাছে রাইকা বড় হচ্ছে।
এদিকে রুনা নিহতের ঘটনায় তার স্বামী লুত্ফর রহমান বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত বখাটে আল আমিন সোহান ওরফে সোহান শাহরিয়ারকে (১৯) একদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে লুত্ফর রহমান অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী নিহতের ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা করার পর আল আমিনের সহযোগীরা হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একটি জিডি করেছেন। পুলিশ আল আমিনের দুই সহযোগীকে আটক করার চেষ্টাই করছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দুলাল চন্দ্র কুণ্ড বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন তার বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কথা স্বীকার করেছে। এজিবি কলোনীর বন্ধুদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সে মোটরসাইকেল চালিয়েছিল। ঘটনার সময় মোটরসাইকেলে তার সঙ্গে আরো দুই বন্ধু ছিল। তাদের নাম-ঠিকানা পুলিশ পেয়েছে। তাদেরও আটক করা হবে।
মামলা তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানান, এলাকার বখাটে কিশোর-তরুণদের কয়েকটি দল এজিবি কলোনি বাজারের কাছে মোটরসাইকেল নিয়ে নিয়মিত আড্ডা দেয়। সন্ধ্যার পর শুরু হয় প্রতিযোগিতার নামে তাদের বখাটেপনা। রাস্তায় যানবাহনের মধ্যে কে কত দ্রুত চালিয়ে আগে যেতে পারে—এটাই তাদের প্রতিযোগিতার বিষয়। গ্রেফতার আল আমিন এজিবি কলোনীর ‘দজাম্বু’ গ্রুপের সদস্য।
নিহত রুনার ছোট বোন বীথি জানান, গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সহকর্মীর বাসায় দাওয়াত যাওয়ার জন্য তাকে সঙ্গে নিয়ে এজিবি কলোনির বাসা থেকে বের হন রুনা। বাসায় বাবা মোহাম্মদ সোবহানের কাছে রেখে যান মেয়ে রাইকাকে। কলোনির ভেতরে রিকশা না পেয়ে হেঁটে মূল সড়কে যান তারা। রাস্তা পার হওয়ার সময় মাঝখানের আইল্যান্ডে ওঠার পরপরই পাশ দিয়ে ঝড়ের বেগে কয়েকটি মোটরসাইকেল রাজারবাগের দিকে ছুটে যায়। ৪/৫টি মোটরসাইকেল চলে যাওয়ার পর ওপারে যাওয়ার জন্য আবার রাস্তায় পা রাখেন রুনা। এমন সময় পেছন থেকে আরেকটি মোটরসাইকেল রুনার পাশ দিয়ে ছুটে যায়। মোটর সাইকেলে থাকা তিনজনের একজন রুনার ওড়না ধরে টান দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রুনা ছিটকে পড়েন মোটরসাইকেলের ওপর। এতে চালক মোটরসাইকেলের গতি বাড়িয়ে দেয়। রুনাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে আইল্যান্ডের উপরে আছড়ে ফেলে। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
মতিঝিল থানার ওসি এবি এম ফরমান আলী বলেন, এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিহত রুনার পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরুণ দেয়ার বিষয়টি মধ্যস্থতা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।