‘আল্লাহর কাছে মানত ছিল আল্লাহই বিচার করবো’

 
‘আল্লাহর কাছে মানত ছিল। মানতের জন্য স্ত্রী, দুই সন্তান, শাশুড়ি ও ছোট ভাইকে নিয়ে গিয়েছিলাম হোসাইনী দালান ইমাম বাড়ায়। কিন্তু গ্রেনেড বিস্ফোরণে স্ত্রী-শাশুড়ির স্থান হাসপাতালে হলেও ফেরানো যায়নি ছোট ভাইকে।’
 
তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি চলাকালে গ্রেনেড হামলায় রাশেদের ছোটভাই সাজ্জাদ হোসেন সানজু নিহত হয়। লাশ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করার পর সানজুর বড় ভাই রাশেদ বলেন, ‘ও ছিল আমার পরিবারের সবার ছোট। যারা ভাইডারে কাইড়া নিল, আমি অগো বিচার চাই। কোনো মা আর ভাইয়ের বুক জানি আর খালি না হয়। আল্লাহই বিচার করবো।’
 
কেরানীগঞ্জের চড়াইল হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল সানজু। রাজধানীর বাবুবাজারের ৫/১, জুমরাইন লেনের বাড়িতে সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী নাসির হোসেন স্ত্রীসহ ৫ ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। অত্যন্ত ঘিঞ্জি ও আয়তনে ছোট বলে ওই বাসা ভাড়া দিয়ে দেন। বছর দুয়েক আগে কেরাণীগঞ্জের শুভাড্যা ইউনিয়নের হাবিবনগরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। এখানেই সানজুকে ভর্তি করে দেন চড়াইল হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণিতে। হোসাইনী দালানে মহরমের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিতে অংশ নেন রাশেদ, তার স্ত্রী সুমি আক্তার, ছোট ভাই সানজু, শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম ও দুই সন্তান সিফাত (৫) ও স্নিগ্ধা (১১)।
 
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রাশেদ বলেন, ‘হঠাত্ করে রাত ২টার দিকে দালানের উত্তর গেটের পূর্ব দিক থেকে ৩টা বোমা ফাটলে সবাই দৌড়াতে থাকে। কেউ রাস্তায় পড়ে যায়। সানজুও পড়ে গিয়েছিল। এ সময় সে পদদলনের শিকার হয়। তাকে টেনে বের করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মারা যায়।’
 
বিস্ফোরণে রাশেদের স্ত্রী সুমির পায়েও স্প্লিন্টার লেগেছে বলেও জানান তিনি। শাশুড়ি আনোয়ারাকেও ঢাকা  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।