জো ক স

সত্যজিত্ বিশ্বাস

সুপার হিউম্যান আসলে কে?

 

সাংবাদিক :আপনি কে?

সুপার হিউম্যান :আমি হলাম সুপার হিউম্যান।

সাংবাদিক :বলেন কী! আপনিই সেই সুপার হিউম্যান, যাকে নিয়ে খুব লেখালেখি হচ্ছে পেপার পত্রিকায়?

সুপার হিউম্যান :হ্যাঁ, আমিই সেই সুপার হিউম্যান।

সাংবাদিক :কিন্তু আপনার গা থেকে এমন পচা গন্ধ বের হচ্ছে কেন? আর চেহারাটাই বা এমন ভচকানো কেন?

সুপার হিউম্যান :আর বোলো না, মিরপুর নামে একটা জায়গা আছে না? ওখানে ল্যান্ড করলাম, তারপর কোন গর্তে ঢুকে পড়লাম টেরও পেলাম না। যখন উঠলাম বাকিটা ইতিহাস।

সাংবাদিক :ইয়ে মানে, ল্যান্ড করার আর জায়গা পেলেন না? অন্য কোথাও নামতেন?

সুপার হিউম্যান :আর কোথায় নামতাম? পুরো ঢাকা শহরে কাটাকাটি নেই কোন জায়গায়? তবে একটা ব্যাপারে আমি অবাক।

সাংবাদিক :কী ব্যাপার? 

সুপার হিউম্যান :এরমধ্যে তোমরা ঢাকাবাসীরা সহি-সালামতে টিকে আছ কী করে? সুপার হিউম্যান আমি নাকি তোমরা?

এটা তো এমনেই

টের পাই

প্রথম বন্ধু :দোস্ত শুনেছিস, উদার দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নাকি ৭৪তম।

দ্বিতীয় বন্ধু :শোনা লাগবে কেন? এটা তো এমনেই টের পাই।

প্রথম বন্ধু :কী করে?

দ্বিতীয় বন্ধু :সকাল থেকে মহল্লার সবগুলো দোকানে ঘুরলাম। একটা দোকানেও যা চাই পেলাম না।

প্রথম বন্ধু :কী চেয়েছিলি?

দ্বিতীয় বন্ধু :বাকিতে কিছু জিনিস কিনতে।

স্যার, লিংকটা

যদি দিতেন

স্যার :তোমরা কী জানো, স্কুুলে পড়া বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরাই স্যোশাল মিডিয়ায় আসক্ত? এটা ভয়াবহ কি না, তোমরাই বলো?

ছাত্ররা :জি স্যার।

স্যার :তাহলে আগামীকাল সবাই রচনা লিখে নিয়ে আসবে এটার ওপর।  

সামনের বেঞ্চের এক ছাত্র :বিষয় কী হবে, স্যার?   

স্যার :বিষয় হলো—স্যোশাল মিডিয়ায় আসক্ত হওয়ার কুফল।

পিছন থেকে এক ছাত্র :স্যার, লিংকটা যদি দিতেন...

ভালোবাসার প্রতিদান

প্রথম বন্ধু :দোস্ত, ওয়ান ডে সিরিজে তো কিউই ওয়াশ খাইলাম। এইবার টেস্টেও তো ইনিংস পরাজয় হইল। লজ্জায়...

দ্বিতীয় বন্ধু :আরে, লজ্জার কী হইল? ওগো জিতায়া দেওয়া আমাগো কর্তব্য।

প্রথম বন্ধু :কী কস, এইসব?

দ্বিতীয় বন্ধু :শোন, ক্রিকেট হইল ভদ্রলোকের খেলা। আমরা তো আর অভদ্র না, তাই না?

প্রথম বন্ধু :তোর কথার মাথামুণ্ডু কিছুই তো বুঝি না। 

দ্বিতীয় বন্ধু :না বোঝার কী হইল? আমাগো দেশে যখন নিউজিল্যান্ড আইলো, তখন ওগো বাংলাওয়াশ করি নাই?

প্রথম বন্ধু :হ করছি, তো কী হইছে?

দ্বিতীয় বন্ধু :এখন ওগো দেশে গেছি, ভালোবাসা ফিরায়া দিতে হইব কী না, তুই-ই ক’?

 

নারী, তোমার কাছেই হারি

মায়ের অগোচরে ছেলে একদিন তার বাবাকে শাসাচ্ছে।

ছেলে :বাবা, আজ নাকি বাসায় নারী দিবসের মিটিং হবে? এসব কী? তুমি কিছু বলছ না কেন?

বাবা :নারী দিবসের মিটিং হবে, এখানে আমি কী বলব?

ছেলে :তোমার নিজস্ব মতামতের কি কোনো দাম নেই? মা কি এ সংসারে তোমার চেয়ে বেশি রোজগার করে? তোমার চেয়েও বেশি বুদ্ধি রাখে? তুমি কেন সব সময় মায়ের সব কথা মেনে নাও? মাকে এত কিসের ভয় তোমার? কথা বলছ না কেন, বলো?   

বাবা :কথা বলছি না, কারণ তোর মা ঠিক তোর পিছনে দাঁড়ানো।

ছেলে (পিছনে না তাকিয়ে) :আমি জানি, আমার লক্ষ্মী মা নিঃশব্দে সব সময় আমার সাথেই থাকে। আমি শুধু দেখতে চাইছিলাম মা সম্পর্কে তোমার কী ধারণা।

বাবা (মুচকি হেসে) :তোর মা সম্পর্কে তোর যেমন ধারণা, আমারও তাই। পিছনে কেউ নেই, তুই নির্ভয়ে আবার শুরু করতে পারিস।

 

কিভাবে যে চালায়?

প্রথম বন্ধু :আমি বুঝি না, ফারুক কিভাবে সংসার চালায়? তার কাছে গেলেই সব সময় শুনি, একটা টাকাও নাই।

দ্বিতীয় বন্ধু :আহারে, কী বলিস? আমাদের বন্ধুর এ অবস্থা কত দিন ধরে?

প্রথম বন্ধু :অনেক দিন থেকেই তো দেখছি।   

দ্বিতীয় বন্ধু :তা, তুই কি প্রায়ই যাস ওর সাথে দেখা করতে?

প্রথম বন্ধু :হ্যাঁ যাই তো, মাসে অন্তত দুই বার যাই।  

দ্বিতীয় বন্ধু :ও কী সব সময়ই টাকা চায় তোর কাছে?

প্রথম বন্ধু :না, ঠিক তা না। আমি ধার চাইলেই এ কথা বলে।

 

আমি তো মরা মানুষ

প্রথম বন্ধু :তোকে একটা কথা বলব, বল কাউকে বলবি না। তাহলে কিন্তু লিজার কাছে আমি ছোট হয়ে যাব। 

দ্বিতীয় বন্ধু :তুই তোর প্রেমিকার কাছে ছোট হোস, এমন কোনো কথা আমি কাউকে বলব? যা কথা দিলাম, তুই যা বলবি আমি মরা মানুষের মতো খালি শুনব।  

প্রথম বন্ধু :লিজা আমার কাছে একটা ড্রেস চেয়েছে। হাতে তো টাকা নেই, কিছু টাকা ধার দিবি? কীরে, কথা বলিস না কেন?

দ্বিতীয় বন্ধু :কথা বলব কী করে? আমি না মরা মানুষ?

 

সব ঠিক আছে, শুধু অভিনয়টা...

নায়িকা :বুলবুল ভাই, আপনি তো আমাকে ভুলেই গেছেন। একটা কাজেও ডাকেন না।  

পরিচালক সাহেব :কে বলল ডাকি না? যান, আমার সামনের সিনেমায় আপনাকে বুকিং দিলাম।

নায়িকা :ও মা, সত্যি?

পরিচালক সাহেব :অবশ্যই। আপনি দেখতে সুন্দরী, গলার স্বরও ভারী মিষ্টি। এই কণ্ঠস্বর মানুষ অনেক পছন্দ করবে।

নায়িকা :বুলবুল ভাই, আপনি গ্রেট।  

পরিচালক সাহেব :তবে...

নায়িকা :তবে কী?

পরিচালক সাহেব :না তেমন কিছু না। আপনার অভিনয়টা অন্য কাউকে দিয়ে ডাবিং করাতে হবে, এই যা।