'মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা একে একে বিএনপি ছাড়বে'

 
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা একে একে বিএনপি ছেড়ে বেরিয়ে আসবে। বৃহস্পতিবার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর পদত্যগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেন। খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়াকে বাদ দিয়ে বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শও দেন তিনি।
 
বৃস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের  মেয়র ও কাউন্সিলরদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের এক যৌথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
 
তিনি খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, শমসের মবিনের পদত্যাগ আবারো প্রমাণ করেছে খালেদা জিয়া বিদেশে বসেও ষড়যন্ত্র করছেন। বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য বিদেশে বসেই সন্ত্রসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এমন কি তিনি লবিস্ট নিয়োগ করেছেন বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় আনা যায় তার জন্য। আমাদের কাছে তথ্য আছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি এ ধরণের চুক্তি হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার বিষয়ে বলা হয়েছে।
 
বিএনপির একজন ভাইস  চেয়ারম্যানের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, আরো অনেকেই ওই দল  ছেড়ে বেরিয়ে আসবেন বলে তার বিশ্বাস। আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি মনে করি বিএনপিতে যারা এখনো মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী আছেন, তারা একে একে এই সন্ত্রাসী  নেতৃত্ব থেকে বেরিয়ে এসে বিএনপিকে ঢেলে সাজাবেন।এর ঘণ্টাখানেক আগে বিএনপির সব পদ  থেকে সরে দাঁড়িয়ে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী। সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করতে ব্যর্থ হয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব যখন কঠিন এক সময় পার করছে, তখনই শমসের মবিনের এই ঘোষণা এল। কখনো নির্বাচনে অংশ না নিলেও গত কয়েকবছর বিএনপির মূল ক্ষমতাকেন্দ্রের খুব কাছাকাছিই ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন।
 
অন্যদিকে সরকারই বিএনপি ভাঙার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত জুলাইয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, বাংলাদেশে এখনও সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হচ্ছে বিএনপি। সেজন্য একে শেষ করতে তারা (সরকার) উঠে পড়ে লেগেছে। এ সময় হানিফ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, বিদেশি নাগরিক হত্যার দায় বিএনপির শীর্ষনেতাদেরও নিতে হবে।
 
তিনি বলেন, নজরুল ইসলাম সাহেব আপনাকে জিজ্ঞেস করতে চাই, আপনি বলেছেন বিদেশি নাগরিক হত্যায় কাইয়ূম কমিশনার জড়িত, এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তার প্রেক্ষিতে আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম এ হত্যার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক  কেন? কিন্তু আপনি তার উত্তর দিতে পারেননি।’
 
হানিফ বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ লন্ডন  থেকে হয়েছে  শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানোর জন্য।  দেশের আইন অনুযায়ী বিএনপির শীর্ষ নেতাদের এ হত্যার দায় নিতে হবে।এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, শিশু বিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব) ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদে  হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল  হোসেন, দফতর সম্পাদক ড. আব্দুস  সোবাহান গোলাপ, ঢাকা দক্ষিণ সিটির  মেয়র সাঈদ খোকন, উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হক প্রমুখ। ফোকাস বাংলা।