সত্যজিত্ বিশ্বাস
একের পর এক সংখ্যা একে, ওকে, তাকে গাট্টা মেরে ঠাট্টা এগিয়ে চলেছে। এই গাট্টাগুলো ঠাট্টা বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে মারে। আসন্ন ১২তম জন্মদিন উপলক্ষে সেই অস্ত্রগুলো কোনটা কেমন রম্য, সেটা বোধগম্য এর জন্য বিশেষ পাঠক প্রতিনিধি পাঠানো হলো পরিদর্শনে। চলুন আমরাও ঘুরে আসি তার সঙ্গে
পাঠক প্রতিনিধি :আপনাকে তো দেখি প্রায়ই সারা পৃষ্ঠাজুড়ে বসে থাকেন। আপনার কি ধারণা, আপনার কনটেন্ট পড়ে কেউ হাসে?
জোকস :উপরওয়ালার দোয়ায় আমার স্বাস্থ্য ভালো। আর স্বাস্থ্য ভালো হলে জায়গা তো একটু বেশি লাগবেই। আর হাসির কথা কী বললেন? জোকস মানে জানেন? তিন অক্ষরের এক দুর্দান্ত কামান হলো ‘জোকস’। যার মধ্যে গোলাবারুদ সব ঠাসা থাকে। যার শেষের অক্ষর বাদ দিলে হয় ‘জোক’, মাঝের অক্ষর বাদ দিলে হয় ‘জোস’, আর শেষের অক্ষর বাদ দিলে হয় ‘কস’। কোনো একটা বিষয়কে জোঁকের মতো চেপে ধরে তার কস বের করতে করতে জোস উপস্থাপনই হলো জোকস। আসেন প্র্যাকটিক্যাল দেখাই। আপনাকে চেপে ধরে কস বের করতে করতে একটা জোকস বলি।
পাঠক প্রতিনিধি :ওরে বাবা রে, কার পাল্লায় পড়লাম রে। না, না জোকস বলা লাগবে না। আপনার জোকস খুবই হাসির, বুঝতে পেরেছি। আমরা এবার চলে যাচ্ছি ছড়ার রাজ্যে। এখানে তো দেখি ছড়ার ছড়াছড়ি। বাহ, দেখে খুব ভালো লাগছে। তা, এসব ছড়া পড়ে মানুষ হাসে নাকি কাশে?
ছড়া :আমায় পড়ে শুনি কে হন দুঃখ-শোকের শিকার?
আমায় নিয়ে আঙুল তোলে, সাধ্য আছে কী কার?
হাসির ওজন কম দিলে তো, দেবেন অভিযোগ
ছন্দে ছন্দে হাসি ফোটাই, নিমিষে সারাই রোগ।
বলুন না প্লিজ, কেমন আমার ভালোবাসার নমুনা?
ছড়া লিখে বুকে জমাই প্রেমের পদ্মা, যমুনা।
পাঠক প্রতিনিধি :বাহ, এ কী ছড়া নাকি গরম ডালের বড়া? প্রেমের খরা নামার আগেই কেটে পড়ি, তাড়াতাড়ি। আমরা এবার এসেছি ‘ঠাট্টাঠক’-এর দুয়ারে। ও ভাই ঠাট্টা-ঠক, ঠক, ঠক, ঠক দরজাটা খোলেন। আপনার সাথে কথা বলতে এসেছি।
ঠাট্টাঠক :এত ঠক ঠকানোর কারণ কী? আমি কি বয়ড়া? শুনতে পাই না? যত্তসব ফাজিল, বেয়াদব, মর্কটের দল। কাম, কাজ নাই কিছু, সারাদিন খালি ঠক ঠকানি। কেন, কলিং বেল নাই? বেল বাজাতে পারিস না?
পাঠক প্রতিনিধি :ওরে বাবা, এইটুকু সাইজের মরিচের ঝাল কী? ঝালের ঠেলায় প্রশ্ন কি করব, তাই তো ভুলে গেছি। যাহোক আমরা এবার এসেছি রম্য গল্পের কাছে। আচ্ছা, ঠাট্টায় আপনাদের ভূমিকা কী?
রম্য গল্প :ঠাট্টায় আমাদের ভূমিকাই তো সব। পুরো ফান ট্যাবলয়েডের যেখানেই ফাঁক-ফোকর সেখানেই তো আমরা। আর আপনি আমাদের ভূমিকা খুঁজে পাচ্ছেন না? চোখের ডাক্তার দেখান না কতদিন যাবত? যান ফোটেন এখান থেকে।
পাঠক প্রতিনিধি :ইয়ে মানে ভাইজান মনে হয় ইনসাল্ট ফিল করেছেন। তার মাথা দেখি কেটলির পানির মতোই ফুটছে। তাই আমাকেও ফুটতে বলল। যাহোক, এখন আমরা চলে এসেছি ঠাট্টাপত্র-এর কাছে। ভাই, কেমন আছেন?
ঠাট্টাপত্র :আর ভাই থাকা। আছি, না থাকার মতোই। এই যুগে কী আর কেউ ঠাট্টা করেও পত্র লেখে? তাই, আমি আছি একদম দেওয়ালে টানানো ছবির মতো। কেউ ফেলায়াও দেয় না, আবার তাকায়াও দেখে না।
পাঠক প্রতিনিধি :ঠাট্টাপত্রের কথা শুনে মনটা খারাপই হয়ে গেল। তাই, ব্যাপক অনুসন্ধানে চলে এলাম ঠাট্টাপত্রের আরেক ভাই ঠাট্টাত্তর-এর কাছে। ভাই, আপনি কেমন আছেন?
ঠাট্টাত্তর :ঠাট্টাপত্র তো এখনো তাও আছে। আমাকে কোথাও দেখেন? এই দুঃখ কই রাখি?
পাঠক প্রতিনিধি :থাক ভাই, মন শক্ত করেন। ভেঙে পড়েন না। নিশ্চয়ই আপনারও সুদিন আসবে। আমরা এবার কথা বলবো পাঠক রম্য এর সাথে। কেমন আছেন?
পাঠক রম্য :সত্যি বলতে কী, একমাত্র ঠাট্টাই আমাদের এতটা মূল্যায়ন করে। এমনটা আর কোথাও করতে দেখি না। বিনিময়ে অবশ্য আমরাও কম দিই না। এখানকার বেশিরভাগ নিয়মিত লেখকই এখান থেকে উঠে আসা।
পাঠক প্রতিনিধি :বাহ, এটা তাহলে তো একটা বিরাট ব্যাপার। ঠাট্টা সম্পাদক একটা বড় ধন্যবাদ পেতেই পারে এমন একটা সুযোগের ব্যবস্থা রাখার জন্য। তেমনই আরেকটা ব্যবস্থা হলো ঠাট্টাড্ডা। এটাও শুধুমাত্র পাঠকদের অংশগ্রহণের জন্যই। আমরা এখন এসেছি ঠাট্টাড্ডার সাথে কথা বলতে। আপনাদের আয়োজনটা নিয়ে কিছু বলবেন?
ঠাট্টাড্ডা :সম্পাদক সাহেব একটা বিষয় ঠিক করে দেন। সে বিষয় নিয়ে যে কোন ধরনের মজার অভিজ্ঞতা, জোকস, গল্প, ছড়া সব রম্য লেখা নিয়েই এই আয়োজন। তবে সম্পাদক সাহেব একটা জিনিস, কোথা থেকে কঠিন কঠিন সব বিষয় নিয়ে আসে কে জানে। কেন রে ভাই, এটা কি বিসিএস? এত আনকমন প্রশ্ন থুক্কু সাবজেক্ট চয়েজ করার হেতু কী?
পাঠক প্রতিনিধি :এত জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে আমার মাথা ঘোরা শুরু হয়ে গেছে, ফুলে পা গোল হয়ে আসছে। পরিদর্শন শেষ করার আগে আমরা কথা বলব শেষ পৃষ্ঠার আয়োজন ‘ধারাবাহিক রম্য গল্প’-এর সাথে।
ধারাবাহিক রম্য গল্প :ওই মিয়া অফ যান। সেই তখন থেকে দেখছি, এর সাথে ফুসুর ফুসুর, ওর সাথে গুজুর গুজুর করছেন, ঘটনা কী? হিরুরে চিনেন? হিরুর জনপ্রিয়তা জানেন? এলাকার বেবাক জনগণ হিরুর কাজ কামে দৌড়ের ওপর থাকে আর এক ট্যাংকির পানি খায়, জানেন এইটা?
পাঠক প্রতিনিধি :ঠাট্টা করলেন নাকি সিরিয়াসলি কইলেন? ঠাট্টা করলে ঠিক আছে। ঠাট্টা ছিল, ঠাট্টা আছে, ঠাট্টা থাকুক যুগের পর যুগ। আর এভাবেই ঠাট্টা করে যাক।
কার্টুন রবিউল ইসলাম সুমন