ফারুক হোসেন সজীব
অদিতির আজ আবার ফেক জন্মদিন! মেসেঞ্জারে শান্ত মিয়া উইশও করল, ‘হ্যাপি বার্থ ডে অদিতি!’ কিন্তু শুধু শুধু উইশ শুনে কী আর আজকাল জন্মদিনকারিনীর পেট ভরে? এজন্য চাই ভোজের আয়োজন!
অদিতি ওপাশ থেকে বলল, ওসব বললে হবে না! শুনলাম, বিলাসী রেস্টুরেন্ট নাকি আজকাল বেশ বিলাসী খাবার অফার করছে!
শান্ত মিয়া একবার ঢোঁক গিলে কিছুক্ষণ পর মেসেঞ্জারের রিপ্লাই দিল, ‘ও তাই বুঝি!’
‘হ্যাঁ তাই! তো কখন নিয়ে যাচ্ছ আমাকে? আমি কিন্তু বিকেলে রেডি হয়ে থাকব!’
শুনে শান্ত মিয়া যেন দশগুণ আরও বেশি শান্ত হয়ে গেল! ঢোঁক চেপে বলল, ‘বলছিলাম ওইখানে না গেলে হয় না! মনে ওই ঝিলের ধারে দু টাকার বাদাম ভাজি খেতে খেতে গল্প করা যেত।’
অদিতি রেগে গিয়ে বলল, ‘ইউ...!’
শান্ত মিয়া হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। মানে সে ফেসবুক থেকে এক ধমক খেয়ে বেরিয়ে গেল। মনে মনে অদিতিকে শান্ত মিয়া চোখ বুঁজে ধন্যবাদও দিল!
কিন্তু অদিতির ছিল আরও দুটি ফেক আইডি ।
কিছুক্ষণ পর শান্ত মিয়া ভাবল, যাই ফেসবুকে একটু ঢু মেরে আসি। এখন নিশ্চয় অদিতি নেই!
ঠিক তাই! শান্ত মিয়া অদিতিকে না দেখতে পেয়ে ভীষণ খুশি হলো।
অদিতি তার ফেক আইডিটা লগ ইন করল। ফেক আইডির নাম ‘সাগরিকা’!
সাগরিকা শান্ত মিয়াকে বলল, ‘ভাইয়া, আজ কিন্তু আমার জন্মদিন!’
মুহূর্তেই শান্ত মিয়া কেমন অশান্ত হয়ে গেল। বলল, ‘ও তাই বুঝি! আগে বলবে না!’
‘আগে বললে কী হতো ভাইয়া?’
‘কী হতো মানে তোমার জন্য.... ইয়ে মানে.. কোনো ব্যবস্থা করতাম!’
‘ব্যবস্থা? তো কী ব্যবস্থা করতে শুনি!’
‘এই যেমন খুশি ঠ্যলায়, ঘোরতে, মানে মানে-ফুল-টুল দিতাম আর কি!’
‘ভাইয়া আপনি না! এখনো সেই আগের যুগেই পরে আছেন?’
শুনে শান্ত মিয়া তো অবাক! ‘কেন কেন আগের যুগে কেন?’
‘এখন আর কেউ কাউকে ফুল-টুল দেয় নাকি?’
‘তাহলে?’
‘এখন দেয় স্মার্ট ফোন, কিংবা জন্মদিনে ঝাকানাকা- লেহেঙ্গা!’
শান্ত মিয়া যতটুকু শান্ত ছিল তার চেয়ে আরও বিশগুণ শান্ত হয়ে গেল। মানে শামুকের মতো চুপসে গেল!
‘কী হলো ভাইয়া কিছু বলছেন না যে? আপনার কী জ্বর আসছে?’
শান্ত মিয়া আমতা-আমতা করে বলল, ‘হ্যাঁ, কাল রাত থেকেই একটু ঠাণ্ডা-ঠাণ্ডা লাগছিল, শান্ত মিয়া একটু খক্-খক্ কাশি দেওয়ার চেষ্ট করল!’
‘এখন কি একটু জ্বর জ্বর মনে হচ্ছে আপনার?’
‘ইয়ে মানে... হ্যাঁ হ্যাঁ জ্বর! জ্বর!’
‘তাহলে কি ভাইয়া আমি স্মার্ট ফোন পাব না?’
‘আচ্ছা! বুকে একটু ব্যথা করছে এখন রাখছি!’ শান্ত মিয়া ফেসবুক লগ আউট করে বিছানায় শুয়ে পড়ল!
শুয়ে শুয়ে শান্ত মিয়া ভাবছে, এখন বুঝি সাগরিকা চলে গেছে! যাই ফেসবুকে আবার ঢু মেরে আসি!
শান্ত মিয়া ফেসবুক এসে দেখল সত্যি সত্যি! সাগরিকাও নেই! চলে গেছে! বড্ড বাঁচা বেঁচে গেল শান্ত মিয়া!
কিছুক্ষণ পরই আবার আরেকটি আইডি থেকে মেসেজ এলো। বলল, ‘ভাইয়া আমাকে চিনতে পেরেছেন, আমি দীপা!’
‘ও হ্যাঁ হ্যাঁ... চিনতে পারব মানে তুমি হলে গিয়ে আমার...!
‘কী হলো ভাই থামলেন কেন?’
‘না ইয়ে মানে...’
‘বলে ফেলুন-পরানের পরান! আত্মার-আত্মা!’
শুনে শান্ত মিয়া তো অবাক! বলল, ‘এতদিনে তুমি তাহলে বুঝে গেছ?’
‘ও আপনার মুখ দেখলেই বুঝি!’
‘আমার মুখ দেখলে মানে?’
‘বাদ দেন তো! জানেন, আজ কিন্তু আমার জন্মদিন!’
‘ও তাই! হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ!’
‘আহা! আহা! দাঁড়ান! দাঁড়ান! এসব বলে কাজ হবে না!’ ‘আমার গিফট চাই!’
শান্ত মিয়া মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেল। এখন তার সত্যি সত্যিই পেট ব্যথা শুরু হয়েছে। কিন্তু দীপাকে সে কী বলে মেসেজে বোঝাবে ব্যথার কথা! পেট ব্যথার কষ্ট কি আর মেসেজে লিখে বোঝানো যায়? তাই শান্ত মিয়া ঝটপট লিখে ফেলল, ‘দীপা আমি রাখছি! আমার দুই নম্বরটা এসে গেছে!’
আর ওদিকে দীপা ভাবল, নিশ্চয় দুই নাম্বার প্রেমিকা! রাগে দীপা মানে অদিতি তো ফোঁস ফোঁস করতে লাগল। আর শান্ত মিয়া টয়লেট থেকে হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বিছানায় শুয়ে পড়ল। শান্ত মিয়া চোখ বড় বড় তার রুমের ছাদের দিকে উদাস নয়নে চেয়ে আছে আর ভাবছে, দূর শালা! আজকাল এত এত জন্মদিন কই থাইক্যা আহে! মাইয়া গো বাপ মায়ের কী একটু আক্কেল জ্ঞানও নাই! এদিকে আমার যে দফারফা অবস্থা!
উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।