দক্ষিণ চীন সাগর থেকে যুদ্ধজাহাজ ফিরিয়ে আনবে যুক্তরাষ্ট্র

 
বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে এ অঞ্চলে যে অভিযানটি চালানো হয়েছে সেটি কয়েক দশক ধরেই আমাদের বিশ্বব্যাপী নিয়মিত অভিযানেরই অংশ। মঙ্গলবার বেইজিংয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতাকালে মার্কিন এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এ সব কথা বলেন। খবর বিবিসির।
 
এ দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেন রোডস বলেন, তারা নিজেদের স্বার্থেই দক্ষিণ চীন সাগরে অভিযান চালিয়েছে। এর একদিন পরই মার্কিন শীর্ষ এ সামরিক কর্মকর্তা ঐ মন্তব্য করেন।  
 
মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ডার হ্যারি হ্যারিস পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতায় বলেন, আমরা সারা বিশ্বে কয়েক দশক ধরেই স্বাধীন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। তাই এতে কারো হতচকিত হওয়ার কোন কারণ নেই। আমাদের সামরিক বাহিনী জলে, আকাশে আন্তর্জাতিক আইন মেনেই অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগর তার থেকে আলাদা কিছু নয় এবং হবেও না।
 
তিনি আরো বলেন, এটি আমাদের ‘নিয়মিত’ অভিযানের অংশ বিশেষ। এটি কোন জাতির প্রতি হুমকির বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইল ধ্বংসকারী ইউএসএস ল্যাসেন যুদ্ধজাহাজ রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল লংঘণ করে চীন সাগরে প্রবেশ করলে গত সপ্তাহে বেইজিং ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং তাদেরকে চলে যেতে হুঁশিয়ারি দেয়। জাহাজটি স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের সুবি ও মিসচেফের চারপাশে টহল দেয়।
 
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র  সপ্তাহে দুইবার বা তার কম ঐ স্থানে অভিযান পরিচালনা করবে।’  এটা একটি ঠিক সিদ্ধান্ত বলেই মনে করি। তবে এটা কোন অনধিকার হস্তক্ষেপ নয়। আন্তর্জাতিক আইন মেনেই আমরা নিয়মিত অনুশীলন করছি এর মাধ্যমে সেটাই নিশ্চিত হবে। তাছাড়া চীন এবং অন্যান্য দেশকেও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অবহিত করা যাবে বলেন ঐ কর্মকর্তা।
 
যুদ্ধজাহাজ প্রবেশ নিয়ে গত সপ্তাহে ইউএস ও চীনা নৌ কমান্ডার পর্যায়ে ভিডিও কনফারেন্স হয়। এসময় চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই ‘উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড’ বন্ধ না করে, তাহলে দক্ষিণ চীন সাগরে একটি ছোট্ট ঘটনাই সংঘর্ষ সৃষ্টি করতে পারে।