মিসরের ব্যাপক-বিস্তৃত নিরাপত্তা আইনের পক্ষে সাফাই গেয়ে প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসি বলেছেন, তিনি এখনো দেশকে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্য সফরকে সামনে রেখে সিসি বিবিসিকে বলেন, মিসর চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হুমকির মুখে এবং এর প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার ভয়ে ভীত। মিসরের পরিস্থিতি ইউরোপ থেকে ভিন্ন বলেও উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে লন্ডনে নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে বৈঠকের আগে কায়রোতে বিবিসিকে দেয়া ওই সাক্ষাত্কারে সিসি বলেন, ‘আমরা মিসরীয় জনগণের ইচ্ছাকে এগিয়ে নিতে চাই। তারা চার বছর ধরে পরিবর্তনের আহবান জানাচ্ছেন। আমরা তাদের পছন্দকে সম্মান জানাতে চাই এবং তাদের জন্য একটি উন্নততর গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য আমাদের সর্বোচ্চটা করবো।’
মিসরের প্রেসিডেন্ট বলেন, 'গতমাসে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা পার্লামেন্ট নির্বাচনে কম ভোটপ্রদান অপ্রত্যাশিত নয় কিংবা তার শাসনের প্রতি মোহভঙ্গের প্রমাণ নয়।' সাক্ষাত্কারে সাবেক এই সেনাপ্রধান চলতি বছরের আগস্ট মাসে প্রণয়ন করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পক্ষেও সাফাই গেয়েছেন। তবে মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, এই আইনটি মিসরে মৌলিক অধিকারগুলোকে আরো সংকুচিত এবং একটি স্থায়ী জরুরি অবস্থাকে রক্ষা করেছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে গণবিক্ষোভের পর তত্কালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ফিল্ড মার্শাল সিসি। এরপর থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর কঠোর পদক্ষেপের ফলে মিসরে শত শত মানুষ নিহত, হত্যা এবং ৪০ হাজারেরও বেশি লোক কারাবন্দী হয়েছে।
এর আগে ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফে সিসির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়া পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য তিনি ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার এক সাক্ষাত্কারে তিনি একথা জানান। সিসি বলেন, ‘লিবিয়া এমন একটি বিপদের মধ্যে রয়েছে যা আমাদের সকলের জন্যই ঝুঁকি। যদি দেশটিতে কোন সরকার না থাকে তবে সেই শূন্যতার সুযোগে চরমপন্থীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।’ মিসরীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মিশন সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়নি। লিবীয় জনগণ ও দেশটির অর্থনীতিকে সহায়তার জন্য আমাদের অবশ্যই সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’ সূত্র: এএফপি, বিবিসি