দীর্ঘ ২৭ বছর পলাতক থাকার পর অবশেষে ছোটা রাজনকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হল। ভারতীয় তদন্ত কর্মকর্তারা এই গ্যাংস্টারকে নিয়ে বিশেষ বিমান যোগে দেশের উদ্দেশে ইন্দোনেশিয়ার বালি থেকে রওনা হন এবং তারা শুক্রবার ভোর ৫টা নাগাদ দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে পৌঁছেন। দিল্লি ও মুম্বাইয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এসব মামলায় বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দু’দশক ধরে তল্লাশির পর দিন বারো আগে অস্ট্রেলিয়া থেকে এসে পৌঁছানোর পর বালিতে গ্রেফতার হন এই মাফিয়া ডন। এর পর থেকেই রাজনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দিল্লি উদ্যোগ নেয়। পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকেই ছোটা রাজনকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ঘিরে সিবিআই সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আপাতত তাদের হেফাজতে রয়েছেন । খবরে বলা হয়, শীঘ্রই তাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রেফতার করা হবে। হস্তান্তর সম্পর্কিত জটিলতা আগেই কেটে গিয়েছিল । ইন্দোনেশিয়া সরকারের কাছে এই সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিয়েছেন ভারতীয় প্রতিনিধিরা।
ইন্দোনেশিয়ায় বালিতে আটক করা মাফিয়া ডন রাজনকে নিয়ে দু’দিন আগেই সিবিআই, দিল্লি ও মুম্বাই পুলিশের যৌথ দলটির দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার বালির কাছেই মাউন্ট রিনজানি আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়ায় বেশ কিছু বিমানের যাত্রা বাতিল করা হয়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় বালির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল বিমানবন্দর খোলার পরে ফের তৎপরতা শুরু হয়। বালির জেল থেকে বের হয়ে কড়া প্রহরায় গাড়িতে ওঠার আগে রাজন সাংবাদিকদের বলেন, দেশে ফিরছি। আমি খুশি। বুলেটপ্রুফ গাড়িতে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে বালির বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয় রাজনকে। ভারতীয় সময় রাত পৌনে আটটা নাগাদ তাকে নিয়ে বিশেষ বিমান যোগে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয়া হয়।
IMG0
মহারাষ্ট্র শুক্রবার রাজনের বিরুদ্ধে করা সব মামলা তড়িঘড়ি করে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজন আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত। এই ধরনের অপরাধের তদন্ত সিবিআই-ই করতে পারে। তাই মামলাগুলি ওই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারি সূত্রের খবরে বলা হয়, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে রাজনের। সেই সমঝোতা মেনেই তার বিরুদ্ধে মামলাগুলি মুম্বাই পুলিশের হাত থেকে সরিয়ে নেওয়া হল। কারণ, মুম্বাই পুলিশের একাংশ তার শত্রু দাউদ ইব্রাহিমের হয়ে কাজ করছে বলে মনে করেন রাজন।
সরকারি সূত্রের খবরে বলা হয়, এ কথা বিশ্বাস করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারাও। তাই রাজনকে আপাতত মুম্বাই না পাঠিয়ে দিল্লিতে সিবিআইয়ের সদর দপ্তরে বা দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেলের অফিসে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় মোহন কুমার ছদ্মনামে নেওয়া একটি ভারতীয় পাসপোর্ট-সহ ধরা পড়েন রাজন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওই পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। রাজন ওই পাসপোর্ট কিভাবে পেলেন তা মন্ত্রণালয় তদন্ত করে দেখছে। বাসস।