মিসরের সিনাইয়ে রাশিয়ার বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দেশটির অবকাশযাপন কেন্দ্র শার্ম আল শেখ ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ। এদিকে বিমান বিধ্বস্তের কারণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বিভিন্ন বক্তব্যে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে।
ব্রিটেনের পর ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসও শার্ম আল শেখে ভ্রমণের বিষয়ে তাদের নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য শুক্রবার থেকে তাদের দেশের পর্যটকদের শারম আল শেখ থেকে বিমানে করে ফিরিয়ে আনা শুরু করেছে। দেশে ফেরার সময় বিমানে তাদেরকে শুধু হ্যান্ড লাগেজ বহন করতে বলা হয়েছে। তাদের অনান্য মালামাল পরে আলাদা বিমানে করে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া লোহিতসাগর তীরবর্তী ওই অবকাশযাপন কেন্দ্র থেকে সব ধরনের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে জার্মানি। তবে রাশিয়ার বিমানগুলো শার্ম আল শেখে যাতায়াত অব্যাহত রেখেছে।
IMG0
শারম আল শেখ থেকে উড্ডয়নের ২০ মিনিট পর গত শনিবার বিধ্বস্ত হয় রাশিয়ার যাত্রীবাহী বিমান এয়ারবাস ৩২১। বিমানটি সাইপ্রাস হয়ে রাশিয়ার পিটাসবার্গের উদ্দেশে যাচ্ছিল। এতে মোট ২২৪ আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ২৫ শিশুসহ ২১৭ যাত্রী ও সাত ক্রু, যাদের সবাই নিহত হয়েছেন।
এদিকে এই বিমান দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে। রাশিয়া বলছে, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ নিয়ে চূড়ান্ত রায় দেয়ার এখনো সময় হয়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো অনেকেই বলছে, সন্ত্রাসী হামলার কারণেই ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তবে মিসরের দাবি, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখনো আসেনি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার বিমান বিধ্বস্ত করার দাবি করে এর দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি জঙ্গিগোষ্ঠী।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে মিসর, রাশিয়া ও ফ্রান্সের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তদন্ত শুরু করেছেন ব্রিটিশ কর্মকর্তারা। বিমানটির উড্ডয়নের আগে সেটির কার্গো হোল্ডে একটি বোমা রাখা হয়েছিল বলে তাদের ধারণা। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, সিনাইয়ের কয়েকটি গোষ্ঠীর গোপন আলাপ থেকে তারা, ওই হামলাটি একটি সন্ত্রাসী হামলা ছিল বলে জানতে পেরেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও বলেছেন, কার্গোতে বোমা থাকার বিষয়টিকে তারাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন।