ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং আজ বলেছেন, সম্প্রতি ভারত কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর দ্বারা চিন্তা, বিশ্বাস, বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারে চরম লঙ্ঘনের মর্মান্তিক ঘটনাবলীতে জাতি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মনমোহন সিং জওহরলাল নেহরুর আসন্ন ১২৫তম জন্মদিন উপলক্ষে এক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন।
‘স্বাধীনতা ছাড়া শান্তি নেই, শান্তি ছাড়া স্বাধীনতা নেই : নেহরুর উত্তরাধিকার ও ভারতের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিতকরণ শীর্ষক এ সম্মেলনটি আয়োজন করেছে। নয়াদিল্লীর রাজীব গান্ধী ইন্সটিটিউট অব কনটেম্পোরারি স্টাডিজ। জওহরলাল নেহরুর ১২৫তম জন্মদিনের প্রাক্কালে আয়োজিত এ সম্মেলনের লক্ষ্য হলো নেহরু প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের মৌল মূল্যবোধসমূহ সুরক্ষা ও শক্তিশালী করতে একটি কর্ম এজেন্ডা প্রণয়ন।
ড. মনমোহন সিং ভারতে সাম্প্রতিক চিন্তা, বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের কিছু চরম লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মনমোহন সিং বলেন, ধর্ম ও বর্ণের কারণে কাউকে দমন করা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তিনি বলেন, মত ভিন্নতা, পৃথক খাদ্যাভ্যাস বা যুক্তির কারণে চিন্তাবিদদের ওপর হামলা বা তাদের হত্যা কিছুতেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। ড. মনমোহন সিং বলেন, দেশের সকল সঠিক চিন্তার মানুষ এ ধরনের ঘটনাকে জাতিসত্ত্বার ওপর হামলা বলে কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ঐক্য এবং বৈচিত্র্য, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বহুত্ববাদের জন্য শ্রদ্ধা প্রজাতন্ত্রের ঠিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত কয়েকদিনে ভারতে অসহিষ্ণুতা প্রতিবাদ আরো বেড়েছে। সর্বশেষ ২৪ জন চলচ্চিত্র নির্মাতা তাদের পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন। এর আগে বেশ কিছু লেখক ও বুদ্ধিজীবী তাদের পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া নারায়ণ মূর্তি ও কিরণ মজুমদার শো’র মতো ব্যবসায়ী নেতা সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হামলার ঘটনায় সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস দেশে বর্ধমান অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে রাষ্ট্রপতি ভবন অভিমুখে একটি মিছিল বের করে। এর আগের দিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বাসস।