জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যার ঘটনায় মুফতি জাহিদ হাসান মারুফ নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার ভোররাতে তাকে ফেনীর ফুলগাজী থানার উত্তর তারাকুচা গ্রাম থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (গোয়েন্দা) মনিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে না, তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্যের জন্য তাকে নিয়ে আসা হয়েছে।
ফুলগাজী থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মুফতি জাহিদ হাসান মারুফকে রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনের প্রকাশক দীপন হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের জানিয়েছেন। পরে বিষয়টি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয় বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
এদিকে মুফতি মারুফের বাবা মুফতি হাবিব উল্লাহ জানান, শুক্রবার ভোর রাতের দিকে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তার বাড়ি ও মাদ্রাসায় অভিযান চালায়। গোয়েন্দারা তাকে জানিয়েছেন, তার ছেলের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা ও দীপন হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে মুফতি হাবিব উল্লার দাবি তার ছেলে এসব কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়।
মুফতি হাবিব বলেন, নিজের মাদ্রাসা থেকেই তার ছেলে মারুফ প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে পরে ছাগলনাইয়া মাদ্রাসা থেকে দাওরা (টাইটেল) পাশ করেন। এরপর চট্টগ্রামের পটিয়া মাদ্রাসা থেকে ইসলামী আইন শাস্ত্রে (মুফতি) দুই বছরের পড়ালেখা করেন। সেখান থেকে আবার গ্রামের বাড়িতে এসে নিজের মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব নেন। তার মাদ্রাসাটি প্রাথমিক পর্যায়ের। আটটি ক্লাস রয়েছে মাদ্রাসাটিতে। জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করেন বলেও জানান তিনি।
গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রযুক্তির সহায়তা ও বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তারা মুফতি মারুফকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছেন। সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, দীপন হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬ জনকে সনাক্ত করা হয়েছে। এদের একজনের ব্যাপারে তথ্য পেতে মারুফকে আটক করা হয়েছে। একজন কিলার মারুফের পরিচিত বলে তদন্তে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা।