‘সংযোগ ছবিটি আমার আগের ছবিগুলো থেকে ভালো হবে’

‘গণ অর্থায়নে এর আগে যদি বাংলাদেশে কোন ছবি নির্মাণ হয়ে থাকত, তাহলে তার সঙ্গে আপনি আমার এ কাজটি তুলনা করতে পারতেন। ভালো হচ্ছে না মন্দ হচ্ছে। আর ইউরোপ আমারিকাতে গত ১৫-২০ বছরে এ বিষয়টি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়ে গেছে। তারা মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে বিশেষ করে অর্থসংস্থানের অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছে যায়। তবে আমাদের এখানে সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে একটু সময় লাগবে। আমরা যে পরিমান অর্থ এ পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পেরেছি তাতে ১৬ ডিসেম্বর থেকে যে শুটিং শুরু করতে পারব এটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছি।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন নির্মাতা আবু সাইয়ীদ।

তিনি আরও জানান, এপ্রিলের মধ্যে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে ছবির পুরো টাকাটা তুলে ফেলার। তারপরও যদি না পারি অন্য যেকোনভাবে আমরা অর্থসংস্থান করব। আর এ ছবির পুরো কাজ শেষ করার জন্য আমরা বাজেট ধরেছি ৮৫ লক্ষ টাকা। আমি যে ছবি বানাই কিংবা যে ধরনের ছবি বানাই তা খুব একটা দর্শকপ্রিয়তা পায় না। তবে একশ্রেণীর দর্শক আবার আমার ছবি পছন্দ করেন। যারা আবার অন্যেরটা করেন না। তবে ‘সংযোগ’ ছবিটি আমার আগের ছবিগুলো থেকে ভালো হবে। সেটা গল্প কাঠামো থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে। তবে আমার পুরো চেষ্টা থাকবে গণ অর্থায়নেই ছবিটি নির্মাণ করার।’
IMG0
এ ছবি থেকে যত টাকা আয় হবে তা নিয়েও রয়েছে এ গুণী নির্মাতার নতুন ভাবনা। জানালেন, ‘সংযোগ থেকে যে টাকা আয় হবে তা আমার পরবর্তী ছবি নির্মাণে ব্যায় করা হবে। এভাবে যদি অন্য কেউ এ ধরনের গণ অর্থায়নে ছবি নির্মাণ শুরু করে তাহলে আমরা সবাই মিলে এ বিষয়টিকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। আমার ইচ্ছে আছে বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার’।

এদিকে গত ৭ অক্টোবর গণ-অর্থায়নে চলচ্চিত্র নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে ৫১৬ জন ‘সংযোগ’ এর সাথে সংযুক্ত হয়েছেন। আর এ পর্যন্ত ৫,৬৩,৭০০ টাকা সংগৃহীত হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এই ছবির চিত্রগ্রহণের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। শহর কেন্দ্রিক এই ছবির অধিকাংশ চিত্রগ্রহণের কাজ ঢাকায় হবে। কিছু অংশ সাভার, জাহাঙ্গীরনগর অথবা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আর কারা এ ছবিতে অভিনয়শিল্পী হিসেবে অভিনয় করবেন তা এখন চূড়ান্ত হয়নি।

‘সংযোগে’র গল্প নিয়ে পরিচালক জানান, ‘কিছুটা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী বলা যেতে পারে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সমাজ-বাস্তবতা’। দেশের বিদ্যমান কারিগরি সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখেই এই ছবিটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংযোগ-এর বিষয়বস্তু আমাদের চলচ্চিত্রের গল্প-ভাবনায় নতুন এক মাত্রা যোগ করতে সক্ষম হবে, এমন বিশ্বাস পরিচালকের। ছবিটির অনেকাংশ জুড়ে থাকবেন সংবাদকর্মীরা। এছাড়াও থাকছে রিপোর্টিং, সংবাদ পাঠ, টক শো।প্রিয়.কম।