সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় প্রধান আসামি কারুমাল ইসলমসহ চারজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।
ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বাকি ৩জন হচ্ছে জালালাবাদ থানার পীরপুর গ্রামের মৃত মব উল্লাহর ছেলে সাদিক আহমদ ময়না ওরফে বড় ময়না ওরফে ময়না চৌকিদার (৪৫), শেখপাড়া গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে তাজউদ্দিন আহমদ ওরফে বাদল (২৮) ও সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামের অলিউর রহমান ওরফে অলিউল্লাহর ছেলে মো. জাকির হোসেন পাভেল ওরফে রাজু (১৮)। এর মধ্যে পাভেল পলাতক রয়েছে।
এ হত্যা মামলায় পূর্ব জাঙ্গাইল গ্রামের ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদ ওরফে নূর মিয়া (২০) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রধান আসামি কামরুল ইসলামের মেজো ভাই মুহিদ আলম (৩২), বড়ভাই আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও ছোটভাই শামীম আলমকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ১০হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া মামলায় ফিরোজ আলী, আজমত উল্লাহ ও রুহুল আমিনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু হয় ১১ টা ২৯ মিনিটে। রায় পড়ে শেষ হওয়ার পর ১২ টা ৫০ মিনিটে রায় ঘোষণা করা হয়। সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা রায় দেন। রাজন হত্যা মামলার রায়ের ৭৬ পৃষ্টা রয়েছে। রায়ের ২ হাজার ৮শ ১০ লাইন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে সকাল সোয়া ১১টার দিকে অভিযুক্ত ১১ জনকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে নিয়ে আসা হয়। সকাল ১১টা ২৪ মিনিটে তাদেরকে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। রায় শুনতে আদালতে উৎসুক জনতার ভিড় ছিল। তিল ধারনের ঠাই ছিল না।
গত ৮ জুলাই সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে শিশু সামিউল আলম রাজনকে একটি ভ্যান গাড়ী চুরির অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয় তাকে। পরে তাকে হত্যা করা হয়।