আসন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে চুলচেরা হিসাব কষছে বিএনপি। দলীয় প্রতীকে এই নির্বাচন করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও কোন লাভ হচ্ছে না। দলটি এই নির্বাচনকে দেখছে ‘সরকারের ষড়যন্ত্র’ হিসাবে। পরিণতিটা কি হবে তা তারা আগাম আঁচ করতে পারছে। তবে করার কিছু নেই। নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই বিএনপির। দলের হাইকমান্ড যদি ঘোষণা দেন যে নির্বাচনে যাবেন না— তাতেও কোনো ফল আসবে না। কারণ মাঠ নেতাদের সামাল দেয়া যাবে না। এখন তৃণমূলে দলের নিয়ন্ত্রণ খুব সামান্যই। তারা ইতিমধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন পুরোদমে। সারাদেশে সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগও শুরু করে দিয়েছেন।
বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতার সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে। দলটির নেতারা বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন দেশে ফেরার পর তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। কেউ কেউ বলছেন, বিনা চ্যালেঞ্জে সরকারকে ছেড়ে দেয়া হবে না। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দিবে না বিএনপি। খুব সম্ভব আমরা নির্বাচনে যাব। এটা ঠিক হবে খালেদা জিয়া ফিরে আসার পর।’
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ইত্তেফাককে বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিবে কি-না তা সিদ্ধান্ত হবে বেগম জিয়া দেশে ফেরার পর। দলীয় ফোরামে এ নিয়ে আলোচনা হবে। তবে নির্বাচনে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের মধ্যে যারা নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাবেন তারা। এককভাবে প্রার্থী দিবেন। তবে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় ২০ দলের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। তাদের একজন নেতা জানান, নির্বাচন কমিশনের নিয়মানুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিবেন তাদের প্রার্থীরা।
২০ দলের প্রভাবশালী শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা এককভাবে অংশ নিবে। খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের জানান, দলীয় প্রতীক ‘ঘড়ি মার্কা’য় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিবেন তারা। বাংলাদেশ ন্যাপের নেতারা জানান, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ‘গাভী’ মার্কায় অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি।
এদিকে নিবন্ধন না থাকায় ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), ইসলামিক পার্টি, পিপলস লীগ, ডেমোক্রেটিক লীগ, সাঈদ আহমদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, ন্যাপ ভাসানীও দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিবেন তাদের প্রার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়। এই নির্বাচন ছিল নির্দলীয়। বিএনপি ঐ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোটগতভাবে অংশ নেয়। তবে এবার আর সেই পরিস্থিতি নেই। জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে পারবে না বিএনপি।
আলোচনা সভা হয়নি:জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা নির্ধারিত সময়ে হয়নি। গতকাল রবিবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর রমনাস্থ ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করেছিল বিএনপি। অনিবার্য কারণবশত সভার তারিখ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন।