জীবাণু প্রতিরোধক আবিষ্কারের পথে সাবরীন

হলিউডের সিনেমায় আজকাল প্রায়ই দেখা যায় যুদ্ধের নতুন সব কলাকৌশল। নতুন অস্ত্র হিসেবে জীবাণুও যে ব্যবহূত হতে পারে তা এসব সিনেমার মাধ্যমেই আমাদের জানা। কিন্তু এসব নিয়ে গবেষণা চলে আসছে অনেক দিন ধরেই। শুধু ক্ষতি করা বা অস্ত্র হিসেবে নয়, মানুষের নিরাপত্তার জন্যই এসব গবেষণা হয়ে আসছে।

 
ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। প্রচারের অভাবে অনেকে না জানলেও জীবাণু নিয়ে গবেষণায় বাংলাদেশ বেশ অগ্রগামী। দীর্ঘদিন ধরে জীবাণু নিয়ে কাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগ। সেখানকার শিক্ষকদের অধীনে জীবাণু নিয়ে কাজ করছেন অনেক তরুণ গবেষক, যারা ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী। এমনই এক তরুণ গবেষক ঢাবির অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাবরীন বাশার।
 
বোর্ড জুনিয়র স্কলারশিপ থেকে শুরু করে জয়নুল মেমোরিয়াল স্কলারশিপ, ইবিএল-ডিইউএএ স্কলারশিপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিনস অ্যাওয়ার্ড, ন্যাশনাল সায়েন্স কিংবা টেকনোলজি ফেলোশিপ অনেক ধরনের পদক আর স্কলারশিপ যোগ হয়েছে তার অর্জনের ঝুলিতে। জীবাণু নিয়ে গবেষণায় এরমধ্যে বেশ খ্যাতিও অর্জন করেছেন সাবরীন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অণুজীব বিজ্ঞানী আনোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে গবেষণা করছেন তিনি। গবেষণাগার বায়োইনফরমেটিকসে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে। লক্ষ্য একটি—দেশের জীবাণু প্রতিরোধী ব্যবস্থার আরও উন্নতি।
 
দিন দিন বিভিন্ন দূষণ আর বিবর্তনের ফলে জীবাণুরাও হয়ে উঠছে শক্তিশালী। এসব জীবাণু হয়ে উঠছে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু। এসব জীবাণুর তৈরির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দূষণ। অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে অ্যান্টিবায়োটিকের বিভিন্ন উপাদান ছড়িয়ে পড়ছে পরিবেশে। আর বাতাস, পানিসহ অন্যান্য মাধ্যম হয়ে তা ফেরত আসছে মানবদেহে। আর এই অ্যান্টিবায়োটিকের সংস্পর্শে এসে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস নিজেদেরকে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী বানিয়ে ফেলছে। ফলে এসব জীবাণু হয়ে উঠছে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী। ফলে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন কমে যায়, তেমনি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধও আর কাজ করে না এসব জীবাণুর ওপর; তাই দেশে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু এবং এ অ্যান্টোবায়োটিক দূষণ আসলে কোন পর্যায়ে, তা নিয়ে কাজ করাটা অণুজীব গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
 
বর্তমানে কী নিয়ে কাজ করছেন সে প্রসঙ্গে সাবরীন জানান, ‘অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু এবং অ্যান্টিবায়োটিকের দূষণ নিয়ে কাজ করছি। আমাদের দেশে আমরা কারণে অকারণে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার খুব বেশি করি। আর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে মানবদেহে। লক্ষ করলে দেখবেন, বিদেশের বিভিন্ন দেশে কম মাত্রার যেকোনো অ্যান্টিবায়োটিক দিলেই রোগ সারছে, অথচ বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে অল্পতেই শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক দিতে। আর এর ভয়াবহ বিরূপ প্রতিক্রিয়া আমাদের চিকিত্সা সেবায় পড়ছে। এখন অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প কিছু উদ্ভাবন করা যায় কি না তা নিয়েও কাজ করছি আমরা।’
 

তরুণ বিজ্ঞাণীদের গবেষণায় আরও উত্সাহী হওয়ার আহ্বান জানান সাবরীন। তার মতে যেকোনো ক্ষেত্রে গবেষণার বিকল্প নেই। নবীন গবেষকদের এজন্য এগিয়ে আসতে হবে। তাদের চিন্তা-চেতনা, কাজের ধরন আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে হবে। আর তাই দরকারি উচ্চতর শিক্ষাও গ্রহণ করতে হবে। সাবরীনও তার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন। মাইক্রোবায়োলজির ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ফিরে আসবেন দেশে। কাজ করবেন দেশে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু এবং অ্যান্টিবায়োটিকের দূষণ নিয়ে।