আবারো নারীদের সাফল্য। এবার প্রযুক্তিতে। ‘বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০১৫’ পুরস্কার জিতেছেন তিন নারী। নারীদের জয়গানের কথা ইত্তেফাকের মহিলা অঙ্গন পাতার মূল
আয়োজন আজ এই তিন নারীকে নিয়েই। জানাচ্ছেন সামিউল ইসলাম শোভন
ফ্রি ল্যান্সিং শব্দটির সঙ্গে বাংলাদেশ খুব বেশিদিন পরিচিত নয়। এইক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত এগোচ্ছে ঠিকই, তবে তা মেয়েদের ক্ষেত্রে একেবারেই কম। তবে সে তালিকার বাইরে সন্ধ্যা রায়, মুমীতা মিশকাত এবং রিজওয়ানা মির্জা। সবমিলিয়ে ৯৪ জনের মধ্যে সংখ্যায় মাত্র তিনজন নারী হলেও এটুকু প্রমাণ করেছেন, খুব বেশি দেরি নেই যেদিন বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তিতেও বড় প্রভাব রাখবে নারীরা।
তিন নারীর একজন রিজওয়ানা নির্জা। পুরস্কার পেয়েছেন তিনি, এখনো যেন বিশ্বাস হচ্ছে না। বললেন, ‘পুরস্কারটা পেয়ে আসলে একটু অবাক হয়েছিলাম, কারণ আমি ভেবেছিলাম যে আমি এখনো তেমন কিছু করতে পারি নি।’ তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না তিনি। পরিকল্পনা নিজেকে আরো অনেক সফল করার। সেক্ষেত্রে বেসিসের দেয়া এই পুরস্কার অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে মনে করেন তিনি।
বললেন, ‘আমার পরিকল্পনা আরও অনেক দূরে যাওয়া, নিজেকে আরও অনেক বেশি সফল দেখা; কিন্তু অসংখ্য ধন্যবাদ বেসিসকে যে তারা আমাকে এর যোগ্য মনে করেছে। ইনশাল্লাহ্ আমি চেষ্টা করবো আরো এগিয়ে যেতে। এই পুরস্কারটা আমাকে সাহায্য করবে আরো সামনে যেতে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতক অজান্তা রিজওয়ানা মির্জা দুই বোনের মধ্যে বড়। এ ফ্রিল্যান্সারের আউটসোর্সিং আগ্রহটা তৈরি হয় তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই। স্নাতক শেষের পর বছর দেড়েক কাজ করেন একটি এনজিওতে। তবে মন পড়ে ছিল স্বাধীনভাবে কিছু একটা করার দিকে। সেই আগ্রহ থেকেই শুরু করেন ফ্রিল্যান্সিং। বর্তমানে তার আয় প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো।
প্রশ্ন এখনো বাকি। জিজ্ঞেস করতেই হলো, মেয়েদেরকে এই ক্ষেত্রে এগিয়ে নিতে কি কি পদক্ষেপ নেয়া উচিত? উত্তরে পরিবারকেই বেশি দায়িত্ববান হতে বললেন তিনি, ‘এখানে পরিবার এর দায়িত্ব অনেক বেশি। আমাদের সময় দিতে হবে, আমাদের মনোযোগ দেয়ার মতো পরিবেশ দিতে হবে।’
নারী পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মনে করেন রিজওয়ানা। আর মেয়েদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে স্বাবলম্বী হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। বললেন, ‘আমি মনে করি নারী এবংপুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, মেধার দিক থেকে তো অবশ্যই নয়। তবুও কিছু কারণে-সামাজিক বা পারিবারিক-মেয়েদের অনেক কিছু মেনে নিতে হয়; চাকরি ছেড়ে দেয়া তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্বাভাবিক। ফ্রীলান্সিং একটি ভালো উপায় যেখানে আমরা আমাদের পরিবারকেও খুশি রাখতে পারি, বিশেষ করে আমরা যারা মা। আবার নিজেরাও প্রতিষ্ঠিত হতে পারি।’
বাকি দুই নারী সন্ধ্যা রায় এবং মুমীতা মিশকাতও খুব একটা সহজভাবে আসেননি এই পথে। ঢাকা সিটি কলেজ থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে স্নাতক করা সন্ধ্যা রায় শুরু থেকেই এই ক্ষেত্রে কিছু একটা করবেন বলে মনে করছিলেন। তবে তার শুরুটা খুব বেশিদিন আগের নয়।
২০১১ সালের শেষের দিকে শুরু করেন ডাটা এন্ট্রির কাজ দিয়ে। পরের বছরেই লোয়ক নামের একটি কোম্পানিতে কাজ পান। তবে এখন তিনি একটি কোম্পানির সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স নিয়ে কাজ করছেন তিনি। জানা গেলো, এন্ড্রয়েড ও আইফোনের বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন নিয়েও কাজ করতে হয় তাকে। দিনে দিনে তার কাজে ক্লায়েন্টরা সন্তুষ্ট হওয়ায় আরো কাজ পাচ্ছেন তিনি। ইচ্ছা রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর উদ্যোক্তা হওয়ার।
ফার্মেসীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করা মুমীতা মিশকাতের কম্পিউটারের ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহ ছিলো না। তবে স্বামী এই পেশায় যুক্ত থাকার কারণে, আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কাজ শুরু করেন ট্রান্সলেটর হিসেবে। বিশেষ করে মেডিক্যাল রিসার্চ, ক্লিনিক্যাল রিসার্চ, আর্টিকেল রাইটিং ও ডাটা এন্ট্রির কাজ করেন তিনি। বর্তমানে যুক্ত রয়েছেন কানাডিয়ান একটি কোম্পানির সঙ্গে। জানিয়ে রাখা ভালো, এবারে তার সঙ্গে তার স্বামীও এই পুরস্কার পেয়েছেন।