লেখক-প্রকাশক হত্যার বিচারের দাবিতে বুদ্ধিজীবীদের বিবৃতি

 
লেখক-প্রকাশক হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে জনমনে ‘স্বস্তি’ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন দেশে ৩৮ জন বুদ্ধিজীবী।
 
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার লেখক-অধ্যাপক-সংস্কৃতিকর্মী-সাংবাদিকদের এই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে খুনিদের আইনের আওতায় আনার বদলে লেখকদেরকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, খুনিদের চেয়েও বেশি অপরাধ হচ্ছে লেখালেখি করা। আমরা এ অবস্থাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।’
 
সম্প্রতি দুর্বৃত্তদের হামলায় এক প্রকাশক খুন এবং আরেকজন আহত হন। এসব হত্যাকাণ্ডের বিচারের আশ্বাস দেয়ার পাশাপাশি গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লেখালেখির মাধ্যমে কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না দেয়ার পরামর্শ দেন।
 
বুদ্ধিজীবীদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বর্তমান সময়ে সংগঠিত প্রকাশক ও লেখকদের হত্যা দেশজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। মুক্তবুদ্ধির জাগরণকে রুদ্ধ করতে সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠী একের পর এক এ ধরনের হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।’
 
বিচার না হওয়ায় ‘খুনিরা উত্সাহিত হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন বিবৃতিদাতারা। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘যে সকল অপরাধীকে ধরা হয়েছে, তারাও জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের এরূপ উদাসীনতা মুক্তবুদ্ধির মানুষদের হতাশ করেছে। সে সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তার অধিকার খর্ব করা হয়েছে। জনমনে হতাশা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে।’
 

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ভাষা সংগ্রামী ও লেখক আহমেদ রফিক, তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সাংবাদিক-সংস্কৃতি সংগঠক কামাল লোহানী, অধ্যাপক যতীন সরকার, অধ্যাপক ড. অজয় রায়, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, অধ্যাপক ড. শফিউদ্দিন আহমেদ, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, লায়লা হাসান, বেগম মুশতারী শফি, ড. অনুপম সেন, অধ্যাপক মাহফুজা খানম, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক আনু মুহম্মদ, সাংবাদিক আবুল মোমেন, শিল্পী অধ্যাপক আবুল বারাক আলভী, সাংবাদিক আবেদ খান, অধ্যাপক এ এন রাশেদা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী সুজেয় শ্যাম, প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ শীশ ও মোনায়েম সরকার।