অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য কাজী কেরামত আলীর এক প্রশ্নের জবাবে আরো বলেন, কিছু অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দায়েরকৃত মামলাসমূহের মধ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়েরকৃত একটি মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট দোষী ব্যক্তিদের ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান ছাড়াও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশনের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকে ২০ লাখ ৪১ হাজার ৫৩৪ দশমিক ৮৮ সিঙ্গাপুর ডলার ফেরত আনা হয়েছে। বিভিন্ন দেশে পাচারকৃত অর্থসহ অন্যান্য আর্থিক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (এফআইইউ)-এর সঙ্গে ইতোমধ্যে ১৭টি দেশের এফআইইউ-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া ইতোধ্যে অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা বিধিমালা ২০১৩ জারি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের ঋণ গ্রহণ করে আত্মসাতের ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ তথা মামলা দায়ের করা হয়ে থাকে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রমে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তদন্তের জন্য তা দুদককে সরবরাহ করে থাকে। বিএফআইইউ প্রেরিত তথ্যাদি দুদকের কার্যক্রমের বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এবং আলোচ্য ক্ষেত্রেও এ ইউনিট দুদককে ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। বাসস।