আজ রবিবার পহেলা অগ্রহায়ণ। বাংলার ঘরে ঘরে পালন হচ্ছে নবান্ন উৎসব। বাংলার কৃষিজীবী সমাজে শস্য উত্পাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে যে সকল আচার-অনুষ্ঠান ও উত্সব পালিত হয়, নবান্ন তার মধ্যে অন্যতম।
IMG0
এই দিনটি উপলক্ষে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনিস্টিউিটের বকুলতলায় নবান্ন উৎসব পালিত হয়। 'এসো মিলি সবে নবান্নের উৎসবে' এই স্লোগানকে সামনে রেখে এবার এই উৎসব পালিত হচ্ছে। এর আয়োজক জাতীয় নবান্ন উৎসব উদযাপন পর্ষদ।
IMG1
রাগ আহির ভৈরবে উদিত হয় বাংলা ১৪২২ সালের অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সূর্য। ভোরের মিষ্টি রোদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বকুলতলায় গানে গানে আহ্বান করা হয় নবান্নকে। গান, কবিতা আর নৃত্যে তুলে ধরা হয় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। উত্সবে ফ্রান্সে জঙ্গি হামলায় মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় শোক জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়।
IMG2
সকাল সাতটা ১ মিনিট থেকে অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়েছে, সকাল নয়টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে নবান্ন শোভাযাত্রা। দ্বিতীয় পর্ব বেলা তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। উৎসবে সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, নবান্ন শোভাযাত্রা, আলকাপ, ধামাইলসহ বিভিন্ন পরিবেশনা থাকবে। থাকবে ঢাক-ঢোলের বাদন আর মুড়ি-মুড়কি, পিঠার আয়োজন।
IMG3
‘নবান্ন’ শব্দের অর্থ ‘নতুন অন্ন’। নতুন আমন ধান কাটার পর সেই ধান থেকে প্রস্তুত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত হয়ে এই উৎসব। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান পাকার পর এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
IMG4
নবান্ন উপলক্ষে এই বাংলায় প্রচলিত আছে অনেক আচার অনুষ্ঠান। উত্তরের জেলাগুলোতে জামাইকে নিমন্ত্রণ করে পিঠা-পায়েস খাওয়ানো হয়। নাইওর আনা হয় মেয়েকে। খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে কৃষকরা মইয়না শাইল ধানের চাল দিয়ে এই উত্সব পালন করে। নেত্রকোনার হাজংরা হাতিবান্দা ধান দিয়ে ও মান্দিরা মিদিম ধানের চাল দিয়ে নবান্ন করে। এছাড়াও শেরপুর অঞ্চলের কোচ জনগোষ্ঠী পুরাবিনি ধান দিয়ে নবান্ন উৎসব করে।