প্রাণভিক্ষার আবেদনের ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা নেই: আনিসুল হক

যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের প্রাণভিক্ষা চাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

শনিবার গুলশানে নিজ বাসবভনে আইনমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা তুলে ধরে ব্যাপারটিকে স্পষ্ট করেন।

আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে কোনো অস্পষ্টতা থেকে যাচ্ছে বলে আমার তো মনে হয় না। আমি তো পরিষ্কারভাবেই আপনাদের বলছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি আরও পরিষ্কার করে দিই। আমি বলতে চাই, যে দরখাস্তটা তাঁরা করেছেন, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তা প্রয়োগ করার জন্য তাঁরা আবেদন করেছেন। আমি যেটা বলছি না, সেটা হচ্ছে যে, এক. এ আবেদনের মধ্যে তাঁরা কী লিখেছেন। দুই. আমাদের কী মতামত। আবেদনটি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে করা হয়েছে। তাই মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমি এ ব্যাপারে কথা বলতে পারি না।’
তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহম্মদ মুজাহিদ যে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন, এ ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা নেই।

এর আগে বিকালে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের উদ্বৃতি দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানিয়েছিলেন, ‘উনি (সালাউদ্দিন কাদের) মার্সি পিটিশন করবেন না। স্ত্রী ও ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছি, ওনার পক্ষে আপনারা প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না? তারা জানিয়েছেন, তাঁরাও মার্সি চান না। একইভাবে মুজাহিদের পরিবারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, তারা মার্সি পিটিশন করবেন না। তবে বিশেষ একটি আইনগত বিষয়ে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করবেন।

দুই পরিবারের সংবাদ সম্মেলনের এক ঘন্টার মধ্যে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দু’জন ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারে গিয়ে প্রাণভিক্ষার বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চাইলে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন।