ফেসবুক ভাইবার বন্ধে অস্বস্তিতে কোটি মানুষ

সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেস-বুকসহ ভাইবার ও অনুরূপ মাধ্যমগুলো বন্ধ থাকায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। অনেকে অস্বস্তিতেও আছেন। বিশেষ করে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই অস্বস্তি অনেক বেশি। তারা এখন অপেক্ষায়—কখন খুলে দেয়া হবে ফেসবুক। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, চায়ের দোকানের আড্ডাসহ সবখানেই ফেসবুক নিয়ে জল্পনা-কল্পনা। অনেকেই পত্রিকা অফিসে ফোন করে জানতে চাচ্ছেন এ বিষয়ে কোনো আশাব্যঞ্জক খবর আছে কি না। কোথাও কোথাও বিকল্প ব্যবস্থায় ফেসবুক চালানো যাচ্ছে।

 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘সরকারের কাছে জননিরাপত্তাই অগ্রাধিকার। নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। আর টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলেই এগুলো খুলে দেয়া হবে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যতদিন প্রয়োজন ততদিন ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ থাকবে।
 
তবে অন্য একটি সূত্র ইত্তেফাককে জানিয়েছে, শিগগিরই ফেসবুক ও ভাইবারসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুলে দেয়া হতে পারে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ এখনই খোলা নাও হতে পারে। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি’র সভাপতি এম এ হাকিম বলেছেন, গত বুধবার ফেসবুকসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ হওয়ার পর প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যান্ডউইথের ব্যবহার কমে গেছে। ফলে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বর্তমানে অনলাইন ব্রাউজিংএ বেশি গতি পাওয়ার কথা গ্রাহকদের।
 
ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি রাজীব আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘ফেসবুক বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যবসা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ ফেসবুকের কোন বিকল্প আমাদের হাতে নেই। সরকার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য এটি বন্ধ করেছে, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু অর্থনীতির কথা চিন্তা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন এটা খুলে দেয়া হয়। তা না হলে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকেই বেকার হয়ে যেতে পারেন।’
 
মোবাইল ফোন অপারেটরদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন তাদের সাড়ে ৪শ’ টেরাবাইট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হতো। এখন ফেসবুক বন্ধের পর ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ৩শ’ টেরাবাইটের নিচে নেমে এসেছে। গ্রামীণফোনের হেড অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মাহমুদ হোসাইন ইত্তেফাককে বলেন, মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা বেশিরভাগ সময় ফেসবুক ব্যবহার করেন। এটি একটি খুবই জনপ্রিয় অ্যাপস। এটি বন্ধ থাকার ফলে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার কমাটাই স্বাভাবিক। ফলে অন্য গ্রাহকরা ব্রাউজিংয়ে গতি বেশি পাচ্ছেন।
 
বাংলাদেশে বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারী ১ কোটি ৮০ লাখ। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুন-তরুণীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তরুণদের একটাই প্রশ্ন—ফেসবুক চালু হবে কবে? বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তাহমিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য ফেসবুক সাময়িকভাবে বন্ধ করা হতেই পারে। কারণ সবকিছুর চেয়ে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাই বড়। কিন্তু ফেসবুক আবার কবে খুলবে সেটাই জানার ইচ্ছা। অপর এক শিক্ষার্থী জুথিকা পাল বলেন, ‘ফেসবুকে বন্ধুদের খুবই মিস করছি। তারপরও ফেসবুক বন্ধ হলে যদি দেশের ভাল হয়, সেটা বেশি ভাল। তবে ফেসবুক কি আর খুলবে না?’
 
এদিকে বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেকে ফেসবুক ব্যবহার করছেন। আবার কোন কোন এলাকায় স্বাভাবিকভাবে ফেসবুক ব্রাউজ করার তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে একটি ওয়াইম্যাক্স সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে গতকালও ফেসবুক স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা গেছে। বিভিন্ন স্থানে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভাইবার কল করাও সম্ভব হয়েছে। আবার অনেক এলাকায় একেবারেই বন্ধ রয়েছে সবকিছু।
 
এ ব্যাপারে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহ্জাহান মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেছেন, বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। এ কারণে সব নেটওয়ার্কে ফেসবুক, ভাইবারসহ অন্যান্য অ্যাপস বন্ধ করতে সময় লাগছে। তবে গত বুধবারের মধ্যেই ৯০ শতাংশ নেটওয়ার্ক বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে পরবর্তী নির্দেশনা পেলে খুলে দেয়া হবে। তবে সে পর্যন্ত আমাদের সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।
 
প্রসঙ্গত, গত বুধবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার চূড়ান্ত রায়েও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বহাল রাখে আপিল বিভাগ। পরে জামায়াত বৃহস্পতিবার হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। রায়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় জনস্বার্থে সারাদেশে ফেসবুক, ভাইবারসহ কয়েকটি অ্যাপস বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর দুপুর সোয়া একটার দিকে ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় ঘন্টা পর ইন্টারনেট সংযোগ আবার খুলে দেয়া হলেও বন্ধ রয়েছে সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো।