সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছিলেন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় অ্যাভিয়েশন ব্লগার স্যাম চেন ও ফুড ব্লগার ট্রেভর জেমস। তারা দু’জনই ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের কয়েকটি শহরে ঘুরেছেন। নিজেদের আগ্রহের বিষয়ের বাইরেও স্বল্প সময়ের মধ্যে দু’জনই এদেশের মানুষের সঙ্গে মিশেছেন, খেয়েছেন এখানকার জনপ্রিয় খাবারগুলো। সব মিলিয়ে ঝুলিভর্তি অভিজ্ঞতা নিয়েই বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিয়েছেন এ দু’জন। সেই গল্পই শুনিয়েছেন তারা—
বাংলাদেশের মানুষে মুগ্ধ স্যাম
বাংলাদেশ জার্নিটা অনেক লম্বা সময়ের ছিল। প্রায় ১৫ ঘণ্টা। অনেক আগেও এই দেশে এসেছিলাম, তবে তখন বিরতি নিয়ে নিয়ে এসেছি। এর আগে যখন এসেছিলাম তখন নানা সমস্যা চোখে পড়েছে আমার। এখনও পড়ছে, কিন্তু তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তবে একটা বিষয়ে আমি খুবই মুগ্ধ। বিমান, বিমানবন্দরসহ সব জায়গায় বাংলাদেশের মানুষ আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন আমাকে। এ দেশের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ
নুরুল করিম
শখের বসে কিংবা জরুরি ভিত্তিতে পৌঁছানোর জন্য বিমানভ্রমণ করেন অনেকেই। কিন্তু বিমান ভ্রমণকে পেশা হিসেবে নিতে ক’জনই-বা পারেন! কারণ বিমানভ্রমণ মানেই খরচ আর খরচ। আয়ের কথা তো পরে! এসব জেনেও স্যাম চুই চড়তে শুরু করেন একের পর এক বিমানে। বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ অভিজ্ঞতার গল্প নিজের ইউটিউব ও ওয়েবসাইটে তুলে ধরতে শুরু করেন তিনি। এক সময় উড়োজাহাজে ভ্রমণ তার নেশা ও পেশা। হয়ে ওঠেন বিখ্যাতও। স্যাম চুই গত ৪ মার্চ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ২০২ ফ্লাইটে চড়ে লন্ডন থেকে ঢাকায় আসেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ মার্চ বিমানে চড়েই ঢাকা ছাড়েন তিনি। তবে একা যাননি, ঝুলি ভরে নিয়ে গেলেন নানা অভিজ্ঞতা।
এ নিয়ে তিনবার
বছরে ৩ লাখ মাইল ভ্রমণ করা মানুষটির বাংলাদেশ ভ্রমণ এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০১১ ও ২০১৩ সালে এসেছিলেন। বাংলাদেশ ভ্রমণের শুরুটা কেমন ছিল? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লন্ডন থেকে বাংলাদেশে বিরতিহীন ফ্লাইট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সই একমাত্র পরিচালনা করে। এ ফ্লাইটের অভিজ্ঞতা নিতেই ভ্রমণ করেছি। মোটামুটি সন্তোষজনক।’
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্যামকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ। ফুলের তোড়া গ্রহণ থেকে শুরু করে ফেরার ফ্লাইট পর্যন্ত বাংলাদেশের আতিথেতায় মুগ্ধ অস্ট্রেলিয়ান এই নাগরিক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জার্নিটা অনেক লম্বা সময়ের ছিল। প্রায় ১৫ ঘণ্টা। অনেক আগেও এই দেশে এসেছিলাম, তবে তখন বিরতি নিয়ে নিয়ে এসেছি। এর আগে যখন এসেছিলাম তখন নানা সমস্যা চোখে পড়েছে আমার। এখনও পড়ছে, কিন্তু তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তবে একটা বিষয়ে আমি খুবই মুগ্ধ। বিমান, বিমানবন্দরসহ সব জায়গায় বাংলাদেশের মানুষ আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন আমাকে। এ দেশের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ।’
বাংলাদেশের খাবার
স্যাম চুই অনেকটা পাখির মতো! সারাবছরই আকাশপথে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যান। যে দেশেই যান সেখানকার লোকাল খাবারগুলো খাওয়ার চেষ্টা করেন। বাংলাদেশে এসেও তার কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। বাংলাদেশের খাবার ভালোই লেগেছে তার। কিন্তু এদেশের খাবারে বৈচিত্র্য কম খুঁজে পেয়েছেন তিনি। এ-ও জানিয়েছেন ভারতের খাবারের সঙ্গে অনেকটা মিল। খাবার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখানকার খাবার অনেক দেশ থেকেই ভালোমানের। কিন্তু বৈচিত্র্য বাড়লে এর মানও আরো ভালো হতো।’
ভক্তের সঙ্গে যাত্রা
বাংলাদেশে আসার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেজে স্যাম চুই জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে তার ফলোয়ারদের মধ্যে আগে কখনো আকাশপথে যাতায়াত করেননি এমন কয়েকজন তার সঙ্গে বিমানে ভ্রমণ করতে পারবেন। এ জন্য নাম, মোবাইল নম্বর ও আইডি কার্ড ই-মেইল করতে হবে। তার এমন ঘোষণার অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেন। নানা দিক বিবেচনা করে স্যাম বেছে নেন সুরাইয়া রহমান, খালিদ হাসান, হাসিবুল হোসেন ও মোহাম্মদ লাবিব খান নামের চার সৌভাগ্যবানকে। তারা ৬ মার্চ ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যান স্যামের সঙ্গী হিসেবে। তাদের আচরণেও খুশি এই অ্যাভিয়েশন ব্লগার। তিনি বলেন, ‘এরা এর আগে উড়োজাহাজে চড়েনি। বিমানবন্দরের আন্দরমহলে প্রবেশ করেনি। কিন্তু তাদের আচরণ ও আগ্রহ দুটোতেই আমি মুগ্ধ।’
সুরাইয়া রহমান নিজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘তিনি (স্যাম) অনেক দারুণ একজন মানুষ। বাংলাদেশে যেন তিনি আবারো আসেন আমরা সেজন্য তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমাদের দেশ কতটা সুন্দর সেটাও বলেছি।’
নিজের কথা বললেন নিজেই
আকাশপথে ঘুরতে কেন এত ভালো লাগে? এই প্রশ্নের উত্তরে ছোট একটি উত্তর দিলেন স্যাম চুই, ‘কৌতুহল।’ খানিকটা চুপ থেকে তিনি আবার বলেন, ‘এই সেক্টরটা সবকিছু থেকেই আলাদা। সব ব্যাপারই আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। এটা নিয়ে মানুষের কৌতুহলেরও শেষ নেই। যেটা আমার মধ্যেও রয়েছে। আর উড়োজাহাজ কখনো থেমে থাকে না। এটাই এই খাতের সৌন্দর্য। প্রতিনিয়ত অ্যাভিয়েশন নিয়ে খবর তৈরি হয়। এ নিয়ে কখনো বিরক্তি ধরে না।’
স্যাম চুইয়ের ব্যক্তিগত ইউটিউবে চ্যানেলে ৯ লাখ ৭০ হাজার সাবস্ক্রাইভার রয়েছে। সেখানে ভিডিও রয়েছে ২২৮টি। এছাড়া নিজের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রামেও নিয়মিত অ্যাভিয়েশন নিয়ে পোস্ট করেন তিনি। এটাই এখন তার পেশা। তবে তিনি জানালেন, এটা ঠিক পেশা নয়! লাইফটাইম শখ! তিনি বলেন, ‘শখটাই এখন চাকরি হয়ে গেছে বলতে পারেন। খুব কম বয়স থেকেই অ্যাভিয়েশনের প্রতি ভালোলাগা জন্মেছিল আমার। তাই ঠিক করলাম অ্যাভিয়েশনের প্রতি আমার আবেগ ও অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দর্শকদের সঙ্গে শেয়ার করবো।’
এই কাজকে এতটাই ভালোবেসে ফেলেছেন তিনি যে, সবসময়ই চিন্তা থাকে উড়োজাহাজ নিয়ে। সেগুলো শেয়ার করেন ভক্তদের কাছে। এ কারণে ধীরে ধীরে ভক্ত বাড়তে থাকে তার। বিশ্বজুড়ে তো ভক্ত রয়েছেই, বাংলাদেশও কম নয়। মঙ্গলবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের অনেকে সমবেত হয়েছিল। তাই ১ ঘণ্টায় ৬ হাজার ৮০০ সেলফি তুলতে হয়েছে তাকে! তিনি বলেন, ‘এক বালক বললো আমার সঙ্গে দেখা করতে ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে। এটা অসাধারণ ব্যাপার।’
স্যাম চুইয়ের জন্ম চীনে। নাগরিকত্ব অস্ট্রেলিয়ার। বিয়ে করেছেন আমেরিকায়। এখন থাকেন দুবাইয়ে। তিনি সারাজীবনই ঘুরে বেড়াতে চান পখির মতো।
আবার আসতে চান ফুড রেঞ্জার
বাংলাদেশের আতিথেয়তায় আমি বিহ্বল। আমি খুবই আনন্দিত যে, আমরা (তিনি ও স্ত্রী) বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করেছিলাম, এটা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। আমার বন্ধু শিমনকে ধন্যবাদ তার পরিবারের সঙ্গে বাসায় তৈরি খাবারের জন্য। রান্না করা মাছ খুবই মজাদার ছিল। খাবার খেয়ে আমাদের পেট একদম ভরে গিয়েছিল। তাদের সঙ্গে গল্প করতে পেরে এবং একসাথে খাবার খেয়ে খুবই ভালো লেগেছে
আহসান জুবায়ের
‘মামা, ভালো?’ বাংলাদেশে নেমেই ট্রেভর জেমস দ্য ফুড রেঞ্জার এই দুটো শব্দ শিখেছেন! যার সাথেই কথা বলেছেন হাসিমুখে উচ্চারণ করেছেন এই দুটো শব্দ। এর বাইরেও আরো বেশকিছু শব্দ বলতে দেখা গেছে তাকে।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জনপ্রিয় ও বিখ্যাত খাবারের স্বাদ মুখে নিয়েছেন ট্রেভর জেমস। গত ২১ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো এসেছিলেন বাংলাদেশে। অল্প কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে নানারকম খাবার খেয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ফিরেও গেছেন। তবে বাংলাদেশ ছাড়ার সময় অভিজ্ঞতার ঝুলিতে সংগ্রহ করেছেন দারুণ কিছু মুহূর্ত ও স্মৃতি। যার প্রমাণ পাওয়া যায় তার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে।
পুরান ঢাকার রোমাঞ্চকর যাত্রা
সুলতানী, মোগল, নবাবী, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের পর প্রাণের শহর ঢাকা ৪০০ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে এসেছে। ইতিহাসের কিছু কিছু অংশের প্রভাব কোথাও খুব বেশি, কোথাও একেবারেই নেই। ইতিহাস ও আধুনিকতাকে একসঙ্গে বয়ে চলছে এই শহরের বিশেষ অংশ পুরান ঢাকা। বাংলাদেশে আসার আগেই এই গল্পগুলো জেনেছেন ট্রেভর। খোঁজ নিয়েছেন এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার সম্পর্কে। গত ১৫ জানুয়ারি নিজের ইনস্টাগ্রাম আইডিতে জেমস জানান বাংলাদেশে আসার কথা। দুই সপ্তাহের ট্রিপে স্থানীয় ও রাস্তার পাশে বিক্রি করা খাবারের স্বাদ নিতে চান। কোন কোন জায়গায় তার যাওয়া উচিত সে বিষয়ে সবার পরামর্শ চান সেই পোস্টে। সাড়াও পান বেশ।
কথামতো তার সপ্তাহখানেক পরই বাংলাদেশে সস্ত্রীক আসেন তিনি। এসেই ঢুঁ মারেন পুরান ঢাকায়। পুরান ঢাকার হরেকরকমের খাবারে স্বাদে বিমোহিত হয়ে যান তিনি। এ নিয়ে ২০ মিনিট দৈর্ঘ্যের একটি ভিডিও নির্মাণ করেন তিনি। এই ভিডিওতে দেখা যায়, তার পুরান ঢাকা অ্যাডভেঞ্চার।
সরু গলি, দম ফেলার জায়গা নেই কোথাও। ভীষণ ব্যস্ত এই শহর। এমন অবস্থায়ও দারুণভাবে এই শহরের মধ্যে প্রাণ আবিষ্কার করে ফেললেন একজন ট্রেভর জেমস! পুরান ঢাকার ভোজন ভ্রমণে এসে ঐতিহ্যবাহী বাকরখানির দোকানে যেতে ভোলেননি। গিয়েছেন বিখ্যাত বিউটি লাচ্ছির দোকানটিতেও। গিয়ে লাচ্ছি এবং ফালুদার স্বাদ নেন। তাকে দেখা যায়, পুরান ঢাকার জনপ্রিয় নিরব হোটেলে। এই হোটেলেও গেছেন দ্য ফুড রেঞ্জার ট্রেভর জেমস। ৩০ পদের রান্না সেখানে তার সামনে উপস্থাপন করা হয়। ট্রেভর জেমস রিকশায় চেপে যান হাজীর বিরিয়ানিতেও। ভালোই লেগেছে তার কাছে। খেয়েছেন পুরান ঢাকার মোরগ পোলাও, টিকা কাবাব এবং ফিরনিও।
প্রতিটি গলিতে রকমারি দোকান, বাহারি খাবার, খাদ্যের সুঘ্রাণ তাকে মাতোয়ারা করে দিয়েছে। নিরব হোটেলের খাবার শুধু খাননি, তিনি কথা বলেছেন রন্ধনশিল্পীর সাথে। এ নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মাছের জন্য খুব বিখ্যাত! মজার ব্যাপার হলো, তিনি খাবারগুলোর রেটিংও দিচ্ছিলেন এবং দ্য ফুড রেঞ্জারের কাছে বেশ ভালোই মার্কস পেয়েছে পুরান ঢাকার খাবার!
কতটা সন্তুষ্ট হলেন!
যখন খবর এলো ঢাকায় ফুড রেঞ্জার আসবেন তখন অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছিলেন, তিনি কি সন্তুষ্ট হবেন? হয়েছেন! বাংলাাদেশের আতিথেতায় বেশ খুশি ছিলেন ট্রেভর। এমনকি অন্যান্য ভ্রমণকারীদের উদ্দেশ্যেও তিনি লিখেছেন, ‘যদি আপনি ২০১৯ সালে ভ্রমণের জন্য চমত্কার কোনো জায়গার খোঁজ করেন, তবে বাংলাদেশকে তালিকায় রাখুন। অবিশ্বাস্য খাবার, আতিথেয়তা, সংস্কৃতি এবং দারুণ নিরাপদ ও আনন্দায়ক স্থান। আমরা অবশ্যই আবারো ফিরে আসবো।’
এদেশের আতিথেয়েতা
এদেশে অবস্থানকালীন সময়ে ট্রেভর জেমস তার বন্ধু ও ‘অশ্রুত’ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট শিমনের বাসায় গিয়েছিলেন তিনি। মূলত জেমসের পোস্টের সূত্রতা ধরেই যোগাযোগ করা হয় শিমনের সঙ্গে। তাদের আতিথেয়তায় বেশ মন কেড়েছে ফুড রেঞ্জারের। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের আতিথেয়তায় আমি বিহ্বল। আমি খুবই আনন্দিত যে, আমরা (তিনি ও স্ত্রী) বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করেছিলাম, এটা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। আমার বন্ধু শিমনকে ধন্যবাদ তার পরিবারের সঙ্গে বাসায় তৈরি খাবারের জন্য। রান্না করা মাছ খুবই মজাদার ছিল। খাবার খেয়ে আমাদের পেট একদম ভরে গিয়েছিল। তাদের সঙ্গে গল্প করতে পেরে এবং একসাথে খাবার খেয়ে খুবই ভালো লেগেছে।’
ট্রেভর জেমসকে নিয়ে শিমন বলেন, ‘বাংলাদেশের বেশিরভাগই খাবার তার কাছে ভালো লেগেছে। বিশেষ করে ইলিশ মাছ, ভর্তা। সে আমাকে বললো, বাংলাদেশের খাবারের প্রেমে পড়েছে সে। আবারো আসার ইচ্ছে আছে তার।’
ইউটিউবে দ্য ফুড রেঞ্জার নামেই বিখ্যাত এই কানাডিয়ান। দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করে সেখানকার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো চেখে দেখার শখ নিয়েই উচ্চমাধ্যমিকের পর ২ বছর গ্যাপ দিয়েছিলেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম করে নিজের শখ মিটিয়েছেন। খাবারের স্বাদ নিতে নিতে একটা সময় তিনি চীনে চলে আসেন। চীনের পথে পথে ঘুরে স্ট্রিট ফুডগুলোর ভিডিও ধারণ করে সেগুলো ইউটিউবে আপলোড করার মাধ্যমেই বানিয়ে নিয়েছেন বিরাট ভক্তকূল। বর্তমানে তার চ্যানেলটি ইউটিউবের সবচেয়ে বিখ্যাত চ্যানেলগুলোর একটি। আর যদি খাবারের বিষয়ে আলাদা করে বলতে হয় তাহলে ভোজনরসিকদের সবচেয়ে পছন্দের দুটি চ্যানেলের মধ্যে একটি তার।