মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নাসার আলি খান বলেছেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জনগণ অতীতের তিক্ততা ভুলে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে এগিয়ে যেতে চায়। তবে বাংলাদেশে একটি গ্রুপ দুই দেশের জনগণের ভ্রাতৃত্বকে ভালো চোখে দেখছে না। এই গ্রুপটির পেছনে যারা রয়েছে তাদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা রয়েছে। ১৯৭০-৭১ সালের ঘটনাক্রমে তাদের ভূমিকাও আমরা জানি। তিনি একে 'পাকিস্তানবাদের' বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিশোধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান খুব ভালো করেই জানে কোন শক্তি ষড়যন্ত্র করে দুই দেশের জনগণকে কাছাকাছি আসতে বাধা দিচ্ছে। একজন পাকিস্তানি হিসেবে আমি অনুভব করি, বাংলাদেশে যা হয়েছে তা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার পরিপন্থী।
বাংলাদেশে 'বিচার ব্যবস্থাকে হত্যা' করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নীরবতা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন।
এর আগে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করায় 'উদ্বেগ ও ক্ষোভ' প্রকাশ করে। ফাঁসি কার্যকর করাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করে বলা হয়, 'আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে বিষয়টি লক্ষ্য করেছি... উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তান গভীরভাবে মর্মাহত।'
এর প্রতিবাদে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনার সুজা আলমকে তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার দুপুরে তিনি ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন। সুজা আলমের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি।' সূত্র: ডেইলি টাইমস