পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-কে জঙ্গিবাদের আঁতুড়ঘর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ওয়ালি-উর রহমান। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, শুধু ভারতই নয় বাংলাদেশও এর সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের শিকার।
ভারতের মুম্বাইয়ে মেগাসিটি সিকিউরিটি কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ওয়ালি-উর-রহমান। সেখানেই পিটিআইকে দেয়া সাক্ষাতকারে সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন, পাকিস্তান এবং আইএসআই আমাদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিপজ্জনক। ওরা লাগাতার ভারত ও বাংলাদেশে নিজেদের লোক পাঠায়। আইএসআই এখনও সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর। শুধু ভারত, বাংলাদেশই নয়। ওরা নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান সহ সার্ক ভুক্ত সব দেশে নিজেদের এজেন্টদের পাঠায়।
আইএসআই বাংলাদেশে ভারতীয়দের ট্রেনিং দিতে ১০১ টি ট্রেনিং ক্যাম্প তৈরি করেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। এগুলো তৈরি করা হয়েছিল ভারতীয়দের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য, যাতে তাদের ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যবহার করতে পারে।কিন্তু বাংলাদেশ কখনো ভারত বিরোধী কার্যকলাপের জন্য বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেবে না বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ভারতকে প্রকৃত বন্ধু উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাঙালিরা খুব আবেগপ্রবণ। প্রত্যেক বাঙালি আমাদের সঙ্গে আছেন। শুধু নেই জামায়াতে ইসলাম এবং বিএনপি। ওরা আমাদের দেশে আইএসআই-কে সমর্থন করে। ১৯৯৬ সালে যখন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে আইএসআই-কে সরিয়ে দেন এবং আমাকে সেই সময়ের ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব পদ্মানাভানের কাছে পাঠিয়ে ছিলেন। আমি তার পরামর্শ অনুযায়ী আইএসআই এর ট্রেনিং ক্যাম্পের তালিকা তৈরি করে সেগুলো নির্মূল করেছিলাম। কিন্তু তারপরেও দেশে আইএসআই সংশ্লিষ্ট উপাদান থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আইএসআই এর কাছে পাকিস্তান সরকারও অসহায় এই ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, মুম্বাই হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারীরা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা বুঝতেই পারছি যে, নওয়াজ শরিফের অবস্থা কীরকম। পিটিআই।