শিয়া মসজিদে হামলা : আইএস'র দায় স্বীকারের খবর সাইটে

বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদে মুসল্লিদের ওপর গুলি চালিয়ে একজনকে হত্যার ঘটনাতেও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ‘দায় স্বীকারের’ খবর প্রকাশ করেছে ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’। বৃহস্পতিবার এ ওয়েব সাইটে খবরটি প্রকাশ করা হয়।
 
জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ তাদের ওয়েব পোর্টালে জানায়, ইসলামিক স্টেট ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
 
শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের হরিপুর বাসস্ট্যান্ড শিয়া মসজিদে বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের সময় গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় মসজিদের মুয়াজ্জিনসহ চার জন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন (৬০) মারা যান।
 
গুলিবিদ্ধ অপর তিনজন হলেন- হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা আফতাব হোসেন (৪০), মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহিনুর (৩৫) ও আলাদীপুর গ্রামের তাহের মিস্ত্রি (৫০)।
 
এর ঠিক এক মাস আগে পুরান ঢাকার ইমামবাড়ায় শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির মধ্যে গ্রেনেড হামলায় দুইজন নিহত হন, আহত হন শতাধিক। বাংলাদেশে সুন্নিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও শিয়াদের ওপর এ ধরনের হামলা এর আগে হয়নি।
 
ইমামবাড়ার ঘটনার পরও আইএস জড়িত বলে দাবি করেছিল ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’। আইএসকে উদ্ধৃত করে তাদের খবরে লেখা হয়েছিল, 'বাংলাদেশে খিলাফতের সৈনিকরা বহু-ঈশ্বরবাদীদের ধর্মীয় আচারের সময় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।'
 
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, বৃহস্পতিবার বগুড়ার হামলাকারীদের মধ্যে একজন টুপি-পাঞ্জাবি পরা এবং অন্য দু’জন চেক শার্ট-প্যান্ট পরিহিত ছিলেন। এর আগে ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশি হত্যা এবং আশুলিয়ায় তল্লাশি চৌকিতে পুলিশ খুন এবং দিনাজপুর ইতালীয় পাদ্রিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনাতেও হামলাকারী ছিলেন তিনজন।
 
ওই তিনটি ক্ষেত্রে হামলাকারীরা মোটর সাইকেলে এলেও শিবগঞ্জে শিয়াদের মসজিদে হামলাকারীরা এসেছিল পায়ে হেঁটে। আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ আইএস- এর দায় স্বীকারের খবর দিয়েছিল, যাকে ভিত্তিহীন বলেছে বাংলাদেশ সরকার ।
 
বগুড়ার হামলার পর গণভবনে এক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্মের নামে হামলাকারীদের ‘উন্মাদ’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, যারা মসজিদে হামলা চালায়, তারা ‘সাচ্চা মুসলিম’ নয়।
 
এর ঠিক আগের দিন ঢাকার দারুস সালামে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আল বাণী ওরফে মাহফুজ ওরফে হোজ্জা ভাই নামে একজন নিহত হওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিহত ব্যক্তি ছিলেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান।