স্যান্ডউইচের দামে দেহ বিক্রি করছেন গ্রিক নারীরা!

 
ভেঙে পড়ছে গ্রিসের অর্থনীতি। দুই মেয়াদে ক্ষমতায় এসেও সিপ্রাস সরকার চিত্রটা পাল্টাতে পারেনি। দিন দিন বাড়ছে বেকারত্ব। গোটা দেশটার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি ঠিক কতটা করুণ তার জলজ্যান্ত ছবিটা বোধহয় পাওয়া যাচ্ছে সে দেশের তরুণীদের অবস্থা থেকে।
 
চাকরি নেই। ক্ষুধার মুখে চিজ বা একটা স্যান্ডউইচ কেনার ক্ষমতাও নেই তাদের। বাধ্য হয়ে শরীর বেচছেন তারা। নয়া এক সমীক্ষা অনুযায়ী এই মুহূর্তে ১৭ হাজার গ্রিক তরুণী বাধ্য হয়ে যৌন পেশায় যুক্ত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, সমগ্র ইউরোপে গ্রিসের যৌনকর্মীরা এখন অন্যতম ‘সস্তা’।
 
প্যান্টেনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক গ্রেগরি ল্যাক্সোসের কথায় ‘কিছু নারী এই পেশায় জড়াচ্ছেন শুধুমাত্র একটা চিজ পাই বা স্যান্ডউইচ কেনার জন্য। কারণটা খুব সাধারণ। তারা ক্ষুধার্ত।
 
দুবছর আগেও যৌনকর্মীদের গড় রেট ছিল ৫০ ইউরো। কিন্তু এখন প্রয়োজন খিদেটুকু মেটানো। তাই মাত্র দুই ইউরোর বিনিময়েই ৩০ মিনিটের জন্য শরীর বিক্রিতে রাজি হয়ে যাচ্ছেন সে দেশের তরুণীরা।
 
২০০২ সালে দ্রাখমা ছেড়ে ইউরোকে মুদ্রা হিসেবে মেনে নেয় গ্রিস। সরকার দাবি করে এর ফলে কমেছে মুদ্রাস্ফীতি, বেড়েছে জিডিপি। কিন্তু ২০০৯ সালে সেই সরকারই ঘোষণা করে আর্থিক উন্নয়নের পুরো গল্পটাই নাকি ভুয়া ছিলো।
 
অনলাইনে পর্ন ভিডিওর রমরমার যুগে সারা পৃথিবীতেই আয় কমছে যৌনকর্মীদের। গ্রিসে দেহ ব্যবসা আইনত সিদ্ধ। ইউরোপে বেশ কিছু দেশে এখনও বেআইনি যৌনপেশা। ফলে বহু দিন আগে থেকেই বিশেষত, পূর্ব ইউরোপের বহু তরুণী দেহব্যবসার জন্য গ্রিসে জড়ো হন। কিন্তু গত তিন বছরে আর্থিক পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে গ্রিসের সাধারণ নাগরিকরা অনেক বেশি এই পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। সূত্র: আনন্দ বাজার