ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে তেল বাণিজ্য রক্ষার্থে তুরস্ক রাশিয়ান বিমান ভূপাতিত করেছে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি পুতিনকে ওই অভিযোগ প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
বিমান ভূপাতিত করার জবাবে পুতিন দাবি করেন, আইএসের দখলকৃত তেল ক্ষেত্রগুলো থেকে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতেই তুরস্ক বিমান ভূপাতিত করেছে। তিনি তুরস্কের এই কার্যক্রমকে ‘বড় ভুল’ বলেও উল্লেখ করেন।
জবাবে পুতিন তার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি এরদোগান। বিমান ভূপাতিত করা নিয়ে গতকাল সোমবার প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্টের করা অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। আজ মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় পুতিন অভিযোগ করে বলেন, তুরস্কে তেলের সরবরাহ রক্ষা করার ইচ্ছা থেকে যে বিমানটিকে হামলার জন্য বাছাই করা হয়েছিল, এটা ভাবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
পুতিনের ভাষ্য, আইএসের তেল তুরস্কে যাচ্ছে বলে রাশিয়ার কাছে যথেষ্ট তথ্য আছে। পুতিনের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়াকে অভিযোগ প্রমাণ করতে বলেছেন এরদোগান। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, কেউ কোনো অভিযোগ করলে, তাঁকে তা প্রমাণ করা উচিত। এরদোগান বলেন, অভিযোগকারীর কাছে কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপন করা উচিত। রাশিয়াকে তার কাছে থাকা তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে আহ্বান জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
আইএসের কাছ থেকে তুরস্ক তেল কিনছে-এই অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হলে পদত্যাগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এরদোগান। আর পুতিন যদি ভুল অভিযোগ করেন, তাহলে তাঁরও পদত্যাগ করা উচিত বলে ইঙ্গিত করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। আইএস-এর সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে তুরস্ক। একই সঙ্গে তুর্কি সরকার বলেছে, তারা ওই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় ক্ষমা চাইবে না।
গত ২৪ নভেম্বর সিরিয়া সীমান্তে তুর্কি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এ ঘটনায় এক রুশ পাইলট নিহত হয়েছেন। আরেকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তুরস্কের দাবি, রুশ যুদ্ধবিমানটি তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল। যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা নিয়ে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে রাশিয়া। বিবিসি।