যুদ্ধাপরাধ তদন্তে শ্রীলংকায় জানুয়ারিতে বিশেষ আদালত

শ্রীলংকায় এক দশক ধরে চলা জাতিগত যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে সংঘটিত বড় ধরনের নৃশংসতার ঘটনা তদন্তে আগামী বছরের শুরুতে একটি বিশেষ যুদ্ধাপরাধ আদালত কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার দেশটির জাতীয় ঐক্য ও মীমাংসা দফতরের প্রধান এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা এ কথা বলেন। খবর রয়টার্সের


তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালের মে মাসে শেষ হওয়া ৩৭ বছর ধরে চলা সংঘাতের শিকারদের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা ছাড়া তার কাজ শেষ হতে পারে না। প্রায় সাত বছর আগে আমরা যুদ্ধটি শেষ করেছি, কিন্তু আমরা শান্তি জয় করতে পারিনি। অতীতের ভুল স্বীকার করা ছাড়া কোনো মীমাংসা সম্ভব নয়’।


তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সম্মুখীন করা না হলে তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ মীমাংসা মেনে নেবে না। ফলে জানুয়ারির মধ্যেই একটি বিশেষ আদালত কাজ শুরু করতে যাচ্ছে’।


গত সেপ্টেম্বরে যুদ্ধাপরাধের বিচারের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ গত সেপ্টেম্বরে একটি প্রস্তাব পাস করে। দু’মাস পর জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ সে প্রস্তাব বাস্তবায়নে শ্রীলংকার অগ্রগতি পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে।


কুমারাতুঙ্গা বলেন, ‘বিশাল পরিমান কাজ সম্পাদন করা হয়েছে এবং বিশেষ আদালত এ মাসের শেষ বা জানুয়ারির গোড়ার দিকে কাজ শুরু করবে। আদালত প্রতিটি সৈন্যের বিষয়ে তদন্ত করবে না, কিন্তু প্রধান ‘লাইন অব কমান্ড’-এর ব্যাপারে তদন্ত হবে। বেঁচে থাকা তামিল বিদ্রোহী নেতাদেরও ‘ভয়ংকর অপরাধ’-এর অভিযোগ প্রশ্নে জবাবদিহি করা হবে’।


আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং তামিলরা শ্রীলংকার যুদ্ধাপরাধ তদন্তে আন্তর্জাতিক বিচারক ও আইনজীবীদের সংশ্লিষ্ট করার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু দেশটির সরকার দৃঢ়তার সাথে সেটি প্রত্যাখ্যান করছে।


কুমারাতুঙ্গা বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন যে, স্বাধীন বিদেশী বিচারকদের সম্পৃক্ত করা শ্রেয়, যেমনটি গত অক্টোবরে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের গৃহীত প্রস্তাবে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।


শ্রীলংকার রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের সময় সরকার ও বিদ্রোহী উভয় পক্ষই বেসরকারি নাগরিকদের টার্গেট করেছে বলে অভিযোগ করে থাকে স্থানীয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ১৯৭২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চলা এ সংঘাতে অন্তত ১ লাখ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।


২০০৯ সালে যুদ্ধ শেষে হওয়ার দুই মাস আগে সরকারি বাহিনী যখন বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এক সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে তখন বেশ কয়েকটি মারাত্মক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে এ সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।


১৯৯৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শ্রীলংকার শাসন ক্ষমতায় থাকা কুমারাতুঙ্গা বলেন, ‘তার দফতর কয়েক দশকব্যাপী চলা গৃহযুদ্ধ অবসানের পর জাতিগত শান্তি নিশ্চিত করতে দেশের সংখ্যাগুরু সিংহলী ও সংখ্যালঘু তামিলদের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করতে কাজ করছে। কেননা মীমাংসা ও জবাবদিহিতা অঙ্গাঅঙ্গি জড়িত। দুটোর একটা ছাড়া অন্যটা হয় না। বাসস