বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ৪ দিনব্যাপী বছরের শুদ্ধতম সঙ্গীতের অনন্য উত্সব ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উত্সব ২০১৫’-তে লাখো দর্শককে মুগ্ধতার জালে জড়িয়ে গেলেন উপমহাদেশের পণ্ডিত মুগ্ধকররা। তাদের সেই সুরের জাদুময়তার কিছু ভঙ্গি আর কথা নিয়েই বিনোদন প্রতিদিনের আয়োজন। গ্রন্থনা করেছেন তানভীর তারেক
০০০০০০০০০০০০০০০
আসরের সমাপনী আনুষ্ঠানিকতায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, ভারতের রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ সরণ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ এ সামাদ, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন ফজলে হাসান আবেদ, শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান ও
বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।
০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০
রূপকথা যখন বাস্তবে!
এবারের আসরেরও সর্বশেষ পারফর্মার হিসেবে সেরা আকর্ষণ হিসেবেই ছিলেন হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়া। এ প্রজন্মের অনেকেই রূপকথার গল্পে হয়তো ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’র নাম শুনেছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থেই সেই জাদুকর বাঁশি বাদকের দেখা পাচ্ছে এ প্রজন্ম বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের কল্যাণেই। বেশকিছু বিচ্ছিন্ন সাক্ষাতে প্রতিবারই বাঙালি ভোজের খুব প্রশংসা করেন। বাগদা চিংড়ি, ইলিশ আর মিষ্টির কথা বারবার তাই বলেন।
০০০০০০০০০০০০০০০০০০
‘এটি উপ-মহাদেশের শ্রেষ্ঠ আসর’
পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর সাথে আয়োজক বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সম্পর্ক আত্মীক। মহান এই পণ্ডিত খেয়াল শুনিয়েছেন উত্সবের দ্বিতীয় দিনে। নানা প্রসঙ্গে অনেককেই বলেছেন তিনি ‘এটি উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ আসর। আগামী অনেক প্রজন্মের কাছে এই পুরো আয়োজন অনেক বড় সম্পদ।’
০০০০০০০০০০০০০০০
আসা নয়, ফিরে আসা
মঞ্চে উঠে রাগ মালকোষে কৌশিকী চক্রবর্তী ধরলেন গান ‘কোয়েলিয়া বোলে’। সে যেন এক অচেনা কৌশিকী। তার আগে সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন, ‘প্রতিবারই এখানে এসেছি। এখন এটা আর আসা নয়, ফিরে আসা। কিন্তু মুশকিল হলো, ঘন ঘন এলে দর্শক প্রত্যাশা বেড়ে যায়।’
তবে সেই প্রত্যাশা আর নিজের নিখুঁত পরিবেশনায় যে তিনি নিবিষ্ট ছিলেন তার প্রমাণ রাখলেন আবারও মঞ্চে। হঠাত্ করে বলে উঠলেন, ‘নাহ! কিচ্ছু হচ্ছে না।’ অথচ পুরো মাঠ ভর্তি অগণিত ভক্তরা মুগ্ধতার কান নিয়ে শুনছেন...এক অবাদ দৃষ্টি নিয়ে...। তিনিই কৌশিকী।
০০০০০০০০০০০০০০
পৃথিবীর কোথাও নেই!
ওস্তাদ রশিদ খানের খেয়াল মুগ্ধতার পাগল কে না! এবারেও অদ্ভুত এক আবেশী বৈঠকে জড়ালেন তিনি। একে একে খেয়াল পরিবেশনের ফাঁকে শিল্পী অনবদ্য ভঙ্গি যেন আরও খানিক আবিষ্ট করছিল। কিভাবে একজন তার সুরের খেয়ায় মিশে যেতে পারেন। গ্রীনরুমে ইভেন্ট ক্রদের সাথে ছবি তোলার সময় ওস্তাদ রশীদ বললেন, ‘এদেশের মতো শ্রোতা পৃথিবীর কোথাও নেই!’
০০০০০০০০০০০০০০০
ওপরওয়ালার ইশারা
এটাও কী সম্ভব! কখনও তবলার বোলে চলছে ট্রেন, কখনও ঘোড়দৌড় কিংবা দুই বন্ধুর কথপোকথন। পারফর্ম শেষে এক বিশিষ্ট অতিথি যখন হাসিমুখে জিজ্ঞেস করছিলেন কিভাবে এই জাদুকরী শব্দ আনেন? ওস্তাদ জাকির হোসেন ওপরের দিকে ডান হাত উঁচিয়ে শুধু বলেন, ‘ওপরওয়ালা ইশারা দেন। কি হয় তা তো আমি জানি না!’