মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্রবাহিনীগুলো এবার নারীদের জন্য সব ধরনের যোদ্ধার ভূমিকায় কাজ করার সুযোগ উম্মুক্ত করে দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীগুলোতে সব ধরনের লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব অ্যাশ কার্টার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাশ কার্টার বলেন, ‘নারী সেনারা যদি প্রয়োজনীয় যোগ্যতা প্রদর্শন করতে পারে এবং ইপ্সিত মানদণ্ড ছুঁতে পারে তাহলে এখন থেকে তারা আমাদের সব ধরনের মিশনে অংশগ্রহণ করতে পরবে। যেটা তারা আগে পারতো না’।
‘এখন থেকে নারী সেনারা ট্যাঙ্ক চালানো, মর্টার গোলা নিক্ষেপ এবং যুদ্ধের ময়দানে পদাতিক সেনাদের নেতৃত্ব দানের সুযোগ পাবে। নারী সেনারা এখন থেকে স্থল বাহিনীর বিশেষ ইউনিট আর্মি রেঞ্জার, গ্রিন বেরেটস, নৌ বাহিনীর নেভী সিলস, নৌ-পদাতিক সেনা, বিমান বাহিনীর প্যারাজাম্পারসহ সব ধরনের যোদ্ধার ভূমিকায় কাজ করতে পারবে। যেসব বিশেষ সামরিক ইউনিট আগে শুধু পুরুষ সেনাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তার সব কটিতেই এখন থেকে নারী সেনারাও কাজ করার সুযোগ পাবে’।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও এই পদক্ষেপকে ‘সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এতে আমাদের সামরিকবাহিনীগুলো আরও শক্তিশালি হবে’।
এক বিবৃতিতে ওবামা বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীগুলো এখন আরো ব্যাপক সংখ্যক মেধাবীকে টেনে আনতে পারবে। যেসব নারী মানদণ্ড অনুযায়ী উচ্চ দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারবে তারা সশস্ত্র বাহিনীগুলোতে কাজ করার নতুন নতুন সুযোগ পাবে’।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে পৃথীবির বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৩ লাখ নারী সেনা নিয়োজিত রয়েছে। এতোদিন প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার সামরিক পদে নারীদের কাজ করার সুযোগ ছিল না। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া