আগামীকাল ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে ভারতের কূটনৈতিক স্বীকৃতির ৪৪তম বার্ষিকী। এই দিনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত ও ভুটান মুক্তিযুদ্ধরত বাংলাদেশকে কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিয়েছিল। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধেরত রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ সরকার এবং বাঙালি জাতিকে ভারত ও ভুটানের এই স্বীকৃতি এক বিশাল উদ্দীপনায় উজ্জীবিত করেছিল। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৈধতা দিয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ত্বরান্বিত করেছে।
‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে জাতিসত্তা, ধর্ম, ভাষা, লিঙ্গ, বিত্ত নির্বিশেষে এদেশের ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশের ১ কোটি সহায়সম্বলহীন শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক জনমত সংঘটিত করেছে। বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১৭ হাজার সদস্য শহীদ হয়েছেন। অন্য কোনো দেশকে স্বাধীন করার জন্য এ ধরনের আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি প্রতি বছরের মত এ বছর দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। আগামীকাল বিকেল ৩টায় ধানমণ্ডির ডব্লুভিএ মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ‘কালের কষ্টিপাথরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরণ। নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। বক্তব্য রাখবেন কমিটির উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কামাল লোহানী, ‘হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিয’-এর সভাপতি অধ্যাপক অজয় রায়, নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী ও ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’- এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাণা দাশ গুপ্ত।
দিবসটি উপলক্ষে সম্মিলিত আওয়ামী সমর্থক জোট আগামীকাল সকাল সাড়ে ৯টায় ছবির হাট সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইটে এক মৈত্রিবন্ধন ও স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করেছে। এই অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী এম.পি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) কে এম শফিউল্লাহ বীরোত্তম উপস্থিত থাকবেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বাসস