যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় হত্যাকাণ্ডকে সন্ত্রাসী হামলা মনে করছে এফবিআই। এদিকে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তির স্বজনেরা ‘পুরোপুরি ধাক্কার মধ্যে’ আছেন বলে জানিয়েছেন তাদের এক আইনজীবী। আর হামলার পর থেকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন সেই এলাকার মুসলমানরা।
ক্যালিফোর্নিয়ায় গত বুধবারের হত্যাকাণ্ডকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। সংস্থাটি বলেছে, এ হামলা ছিল সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের অংশ। ফলে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবেই এর তদন্ত হচ্ছে।
এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কমি জানান, তথ্যপ্রমাণ থেকে এটা নিশ্চিত যে, হামলাকারী দম্পতি চরমপন্থি ছিলেন। এফবিআইয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস বলেছে, হামলাকারী সৈয়দ রিজওয়ান ফারুকের সঙ্গে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট সিরিয়ার আল নুসরা ফ্রন্টসহ কমপক্ষে দু’টি জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দাবি: হামলার পেছনে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উস্কানি রয়েছে। তবে সরাসরি কোনও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামলায় জড়িত কি-না সে ব্যাপারে তারা এখনো নিশ্চিত নয়। এর আগে এফবিআইয়ের মুখপাত্র ডেভিড বোডিচম বলেন, হামলাকারী তাসফিন মালিক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদিকে ভিন্ন নামে সমর্থন করে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। তবে পরে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়।
এদিকে ওই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে হামলাকারী দুই ব্যক্তির স্বজনেরা ‘পুরোপুরি ধাক্কার মধ্যে’ আছেন বলে জানিয়েছেন তাদের পারিবারিক আইনজীবী। তারা বলছেন, ফারুক ও মালিক এই ধরনের কাজ করতে পারে বলে তাদের কোনো ধারণা ছিল না।
আত্মীয়-স্বজনদের প্রতিনিধি হিসেবে আইনজীবী জানান, ফারুক তেমন মিশুক ছিলেন না এবং তার গুটিকয়েক বন্ধু ছিল। অন্যদিকে তার স্ত্রী ছিলেন কোমল ও মৃদুভাষী স্বভাবের একজন মানুষ। ওই দম্পতি যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, সেই বাড়ির মালিক ডয়লে মিলার জানিয়েছেন, রেডল্যান্ডসে তার বাড়িটি যখন তারা ভাড়া নেন, তখন দুশ্চিন্তা করার মতো কিছু তিনি দেখেননি। সব খোঁজখবর নেয়া হয়েছিল। ভাড়াটিয়ার লেনদেনও ভালো ছিল।
হতাহতের ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার ওই এলাকার মানুষজন এখনো ভয়াবহতার ঘোর কাটাতে পারেননি। আর হামলার পর থেকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছেন সেখানকার মুসলমান অধিবাসীরা। তাদের মতে, এই ঘটনাটা তাদের জন্য বিব্রতকর ও কলঙ্কজনক। আহসান খান নামে অরেঞ্জ কাউন্টির একজন চিকিত্সক বলেছেন, ‘ঘটনাটা আমার বাড়ির খুব কাছে ঘটেছে এবং দোষী ব্যক্তি যে একজন মুসলিম, সেটা একইসাথে হতাশার এবং দুর্ভাগ্যজনক।’ গত বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্ডিনোর ওই হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ২১ জন মানুষ আহত হয়। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স