পাকিস্তানের পণ্য বর্জন ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও বর্বরতা নিয়ে পাকিস্তান মিথ্যাচার করাসহ এখনও শিষ্টাচার বহির্ভূত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এই মিথ্যাচারের প্রতিবাদে পাকিস্তানের সব পণ্য বর্জন ও দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুরো বিশ্ব সম্প্রদায় একাত্তরে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের সত্যতা স্বীকার করলেও পাকিস্তানই এখনো পরাজয়ের গ্লানি মেনে নিতে পারছে না। আর তাই তারা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।


শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনের সামনে ‘একাত্তরের গণহত্যা: পাকিস্তানের অস্বীকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তৃতা করার সময় এসব কথা বলেন এইচটি ইমাম। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও স্বজন হারানোদের একটি সংগঠন ‘একাত্তরের স্বজনহারা ফোরাম’ এ সভার আয়োজন করে।


সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদির গামা, একাত্তরের বামপন্থি গেরিলা বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান, জাতীয় পতাকার ডিজাইনার শিব নারায়ণ দাস প্রমুখ এতে বক্তব্য রাখেন।


এইচ টি ইমাম বলেন, পাকিস্তানের শোষণ ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদেই একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হয়েছিলাম। কিন্তু পাকিস্তান এখনও তাদের সেই পরাজয় মেনে নিতে পারেনি, যে কারণে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাদের মিথ্যাচার অব্যাহত রেখেছে। এর বিরুদ্ধে বাঙ্গালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কতিপয় পাকিস্তানি এখনও বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়কে মেনে নিতে পারেনি। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একের পর এক মিথ্যাচার করছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, পাকিস্তানের কয়েকটি সংগঠন ও সাধারণ মানুষ গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পাকিস্তান সরকারের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে।


পাকিস্তানকে ব্যর্থ রাষ্ট্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে উন্নত রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে; অন্যদিকে পাকিস্তান একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তাই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে- পাকিস্তানের কোনো ছায়া যাতে আমাদের ওপর না পড়ে।


ইসমত কাদির গামা বলেন, পাকিস্তানের মিথ্যাচারের কারণে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। তারা জনগণকে বুঝিয়েছিল, পূর্ব-পাকিস্তানে সবাই হিন্দু, এরা সভ্য নয়। পাকিস্তানের সেই মিথ্যাচার এখনও অব্যাহত রয়েছে।


মাহবুব জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়নি। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে। তরুণ-প্রজন্মকে নব্য মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে যড়যন্ত্র মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।


অনুষ্ঠান শেষে সংগঠন ও আলোচকদের পক্ষ থেকে শিখা চিরন্তনে ফুল দিয়ে শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করা হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্বজন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাসস