বাঙালি জাতির গৌরবের মাস ডিসেম্বর। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই মানচিত্রে আমাদের প্রণম্য মুক্তিযোদ্ধা তারকাদের সংখ্যাও কম নয়। প্রতিবছর বিজয়ের মাসে আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে শিল্পী-কুশলীদের লেখা বা স্মৃতিগদ্য ছেপে থাকি। এ বছরে পুরো মাসজুড়ে তারকাদের বয়ানে থাকবে তাদের দেখা যুদ্ধকালীন খণ্ডচিত্র। এ নিয়েই পুরো ডিসেম্বরের আয়োজন ‘সেই সময়’। আজ লিখেছেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী
প্রতিটি ঘটনা এতোটাই স্পষ্ট যে কখনও হূদয় থেকে মুছবে না। ১৯৭১ সালের ঘটনা অনেক।
্রএর ভেতরে আমরা মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছি, যেকোনো সময় আমাদের কিছু একটা হয়ে যাবে। যুদ্ধের শুরুর দিককার একটি ঘটনা। তখন রাস্তায় মেশিনগান বসিয়ে বিভিন্ন বাসায় গিয়ে গিয়ে তল্লাশি করা হতো। খুব ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি ছিল। আমারই এক বন্ধু এমপি। তার খোঁজ বের করার জন্য মিলিটারিরা উঠে-পড়ে লেগেছিল। তার এই বিপজ্জনক অবস্থায় আমারই বাসায় রাখা হয় তাকে। একসময় মিলিটারিরা খবর পেয়ে যায়, আমার বাসায় তিনি আছেন। বাসার আশেপাশের রাস্তায় মেশিনগান বসিয়ে কর্ডন দিলো। হঠাত্ বাসায় এলো তারা চেক করতে। আমি দরজা থেকে তাদের একটা সালাম দিয়ে রিসিভ করলাম। আমাকে জিজ্ঞেস করলো, নাম কী? আমি খুব জোরে বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললাম, সৈয়দ আবদুল হাদী। নামটি শুনেই তারা আমার প্রতি সদয় হলো এবং বললো, ‘সৈয়দ আদমী, শরীফ আদমী, বেডরুম মাত যাও।’ এই কথাটি বলে তারা পুরো বাড়ি তল্লাশি চালালো। আমার বেডরুমে আর ঢুকলো না। তাদের তল্লাশি শেষে তারা উল্টো আমাকে সালাম দিয়ে বললো, ‘এটা আমাদের ডিউটি, পালন করলাম, আমরা যাই।’ তারা চলে গেলেন, অথচ বন্ধুকে আমার বেডরুমেই রেখেছিলাম। সেদিনের ছোট্ট এই স্মৃতিটি আজও ভাবলে শিউরে উঠি। এ রকম হাজার হাজার আতঙ্কের গল্পে আমাদের বিজয় গাঁথা। সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে আমার সশ্রদ্ধ সালাম।