পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলছেন, একাত্তরে পাকিস্তানের যে ভূমিকা ছিল তার জন্য দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। সেটা এক ধরনের ক্ষমা চাওয়াই। কিন্তু তার ভাষা জোরালো ছিল না।
বরিবার বিকেল ধানমণ্ডিতে ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশকে ভারতের কূটনৈতিক স্বীকৃতির ৪৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘কালে কষ্টি পাথরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের সাংবাদিক হামীদ মীর, মানবাধিকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গীরের লেখায় জামায়াতে ইসলামী যে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল সে বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দু’দেশের জনগণের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত। এটা প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্ম চলতে থাকবে। এই সম্পর্ক কোনভাবেই নষ্ট করা যাবে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শত্রুরা ভারতবিরোধিতা এবং জনগণের সঙ্গে শত্রুতা ও চক্রান্ত শুরু করে। তারা স্বাধীন বাংলাদেশের ধ্যান ধারণা নষ্ট করে দেয়। জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে খালেদা জিয়া পর্যন্ত সময়ে সেই সম্পর্ক অব্যাহত থাকে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্কের আবার উন্নতি ঘটতে থাকে। তিনি ২০০৮ সালে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে। বর্তমান বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ভ্রাতৃত্ববোধ সহমর্মিতা উত্তর উত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী দিনে এই সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাবে।
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত এই আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসির মামুন। কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন- হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস অব বাংলাদেশ মাইনোরিটির সভাপতি অধ্যাপক অজয় রায় ও শহিদ জায়া শ্যামলি নাসরিন চৌধুরী।