প্যারিস জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনের মূল পর্ব শুরু হচ্ছে আজ। আগামী কয়েকদিনের আলোচনার ওপর নির্ভর করছে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে একটি অর্থবহ চুক্তি হবে কিনা। বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এ আলোচনায় যোগ দেবেন। সম্মেলনে অংশ নেয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা প্যারিস চুক্তির জন্য ইতিমধ্যে একটি খসড়া জমা দিয়েছেন। এ খসড়া নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে যেসব মতবিরোধ আছে সেগুলো মেটানোর চেষ্টা করা হবে আগামী কয়েকদিনে।
সম্মেলনে আগত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা আশা করছেন, আগামী কয়েকদিন মতভিন্নতা কমিয়ে এনে পৃথিবীর দূষণ কমাতে একটি কার্যকর চুক্তি করা যাবে। ৪৮ পৃষ্ঠার খসড়া নিয়ে আজ থেকে মন্ত্রী পর্যায়ের যে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে তা নিয়ে বিভেদ স্পষ্ট। ফ্রান্সের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত ইতিমধ্যে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছতে হলে অনেক বড় বড় রাজনৈতিক মতভেদ দূর করতে হবে।
১৯৫টি দেশের প্রতিনিধিরা যে খসড়া জমা দিয়েছেন তা এমনি এমনি হয়নি। আয়োজক দেশ ফ্রান্সকে এর জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। এরপর নানা মতবিরোধ সত্ত্বেও প্রতিনিধিরা চুক্তির খসড়া জমা দিয়েছেন। ফ্রান্সের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত লরেন্স তুবিয়ানাও বলেছেন, ‘এখনো সবকিছু চূড়ান্ত হয়নি, আবার বলা যায় চূড়ান্ত হবার কিছু বাকী নেই। তবে এটুকু বলা যায়, আমরা এখনো পথের শেষে যেতে পারিনি। সেখানে যেতে হলে শক্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার।’
খসড়া চুক্তিতে যে বিষয়গুলো নিয়ে অস্পষ্টতা আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— প্যারিস চুক্তিটি কতো বছরের জন্য হবে আর জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশেগুলোর জন্য অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া কি হবে। আবার বিভিন্ন দেশের অবস্থান নিয়েও খসড়াতে মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯২ সালে জাতিসংঘ কনভেনশন সইয়ের সময় যে দেশটি স্বল্পোন্নত ছিলো সেটি এখন আর তা নেই। অনেক দেশের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। ধনী দেশগুলো অভিযোগ করে বলছে, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির অনেক দেশ মারাত্মক দূষণ করলেও তাদের অনেকেই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় রয়েছে। জলবায়ু তহবিলে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো যে অর্থ দেবে তার ভাগিদার তারাও হবে— যা অগ্রহণযোগ্য। উন্নত দেশের দাবি হচ্ছে জলবায়ু তহবিলে তাদেরকেও অর্থ দিতে হবে।
এদিকে, সম্মেলনে অংশ নেয়া প্রভাবশালী দেশের এক প্রতিনিধি ইত্তেফাককে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আপাতত খসড়া চুক্তিতে অনেক মতবিরোধ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এবারের চুক্তিটি বেশ চমকপ্রদ হবে। তিনি জানান, খসড়া চুক্তিটি ৪৮ পৃষ্ঠার হলেও শেষ পর্যন্ত তা ৩৫ পৃষ্ঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে চুক্তিতে আসতে হলে অনেক বিষয়ে মন্ত্রীদের ঐকমত্য হতে হবে। বেশকিছু বিষয়ে আপোষ করতে হবে।