রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের শাখায় হত্যাকান্ড ঘটিয়ে ডাকাতির ঘটনায় ১১ জনকে আসামি করে পৃথক দুইটি অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগপত্র দুটিতে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আটককৃত ১০ জন ও পলাতক ১ জনসহ ১১ জন সদস্যকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে এ ঘটনায় জড়িত দুজন গণপিটুনিতে ও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বলে ওই দুজনকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। দীর্ঘ আট মাস মামলার তদন্ত শেষে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক চন্দ্র সাহা গতকাল রবিবার বিকালে ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে এ দুটি অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আবদুল্লাহ আল বাকী। তিনি এক সময় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মতপার্থক্যের কারণে তিনি জেএমবি থেকে বের হয়ে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে জড়িত হন। এরপর তিনি ও তার সহযোগীরা অর্থ সংগ্রহের কাজ শুরু করে। একই ধারাবাহিকতায় তার নেতৃত্বে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল বেলা আড়াইটার দিকে আশুলিয়ায় ওই ব্যাংকে তারা ডাকাতি করতে যায়। এসময় তারা গুলি করে, বোমা মেরে এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপকসহ প্রথমে তিনজনকে হত্যা করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতে থাকে। স্থানীয় জনতা তাদের ধাওয়া করে। তখন জনতাকে লক্ষ্য করে তারা গুলি করে ও বোমা মারে। তখন আরও পাঁচজন সাধারণ মানুষ নিহত হন। পরে জনতা তিনজনকে ধরে ফেলে। বাকিরা পালিয়ে যান। আটক তিনজনের মধ্যে আসিফ হোসেন নামের একজন গণপিটুনিতে মারা যান। বাকি দুজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে জনতা। পরে এ ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলার পর আরও আটজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।