অস্ট্রিয়ার একটি শহরে মানুষের মধ্যে সহনশীলতা বাড়াতে সাত মাস আগে অভিনব একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শহরের চরম দক্ষিণপন্থী কর্তৃপক্ষ এখন সেই পরিকল্পনা বাতিল করে দিয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাস্তা পারাপারের যে সিগন্যাল বাতি সেখানে সমকামিতার প্রতীকী কিছু ছবি বসানো হয়েছিল।
পথচারীরা যখন রাস্তা পার হন তখন সিগন্যাল বাতিতে সাধারণত ‘স্টপ’ বোঝাতে লাল রঙের একটি মানুষকে জ্বলতে দেখা যায়। আর রাস্তা পার হওয়ার কথা যখন বলা হয় তখন একটি সবুজ রঙের মানুষকে জ্বলতে দেখা যায়।
কিন্তু অস্ট্রিয়ার লিনৎস শহরে ওই সিগন্যাল বাতিতে বসানো হয়েছিল একই লিঙ্গের অর্থাৎ দু’জন নারী বা পুরুষ হাত ধরাধরি করে একসাথে দাঁড়িয়ে আছে, তখন লাল রঙের, স্টপ বোঝাতে। আর হাত ধরাধরি করে হেঁটে যাচ্ছে, তখন সবুজ রঙের, রাস্তা পার হোন বোঝাতে।
এটি প্রথম চালু করা হয়েছিল ভিয়েনা শহরে, গত মে মাসে। পরে আরো কয়েকটি শহরে এই সিগন্যাল বাতি বসানো হয়। চরম দক্ষিণপন্থী এক কর্মকর্তার উদ্যোগে লিৎনস শহর থেকে এখন এ সব বাতি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।
দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দল ফ্রিডম পার্টির একজন কাউন্সিলর মারকুস হেইন বলেছেন, ট্রাফিক লাইট হচ্ছে গাড়ি চলাচলের জন্য। মানুষ কি ধরনের জীবনযাপন করবে সে বিষয়ে উপদেশ দেওয়ার জন্য এই বাতি ব্যবহার করা উচিত নয়। এই পরিকল্পনার তিনি বিরোধিতা করছেন একেবারে শুরু থেকেই।
তিনি বলেন, অস্ট্রিয়ায় সমকামীদের অধিকার ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর জন্য ট্রাফিক বাতি ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই।
কিন্তু যারা এর পক্ষে ছিলেন, গ্রিন পার্টির নেতারা এ সব ট্রাফিক সিগন্যাল সরিয়ে নেওয়াকে লজ্জার ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।
এই দলের একজন নেতা বলছেন, ভিন্নমতের ভিন্ন আচরণের মানুষকে যেখানে এক সঙ্গে বসবাসের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে তখন এ ধরনের সিদ্ধান্ত দুঃখজনক।
সাধারণ লোকজনের মধ্যে এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে।-বিবিসি