সন্তান জন্মদানে বছরে প্রাণ হারান ৫২৭০ প্রসূতি মা

দেশে প্রতি বছর ৩১ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করে। আর সন্তান জন্মদানে প্রতিবছর ৫ হাজার ২৭০ জন মা মারা যান। গড়ে ৫৬৮টি শিশু জন্ম দিতে গিয়ে একজন মায়ের মৃত্যু হয়। অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে ও অপ্রশিক্ষিত হাতে শিশু জন্ম নেওয়াই মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ বলে ‘শিশু ও মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধ’ বিষয়ক এক কর্মশালায় এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।


মঙ্গলবার রাজশাহী নগরীর একটি মোটেলে ‘ইউএসএইড’ ও ‘ভয়েস অব আমেরিকা’ রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে শিশু ও মাতৃ মৃত্যু প্রতিরোধ’ বিষয়ক এ কর্মশালার আয়োজন করে।


কর্মশালায় আরো উপস্থাপিত প্রতিবেদনে উঠে আসে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া ৩১ লাখ শিশুর মধ্যে মাত্র ১৩ লাখ শিশুর জন্ম হয়ে থাকে প্রশিক্ষিত হাতের মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, দেশের ৬৫ শতাংশ মেয়ের অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে হয় ও গর্ভধারণ করে। সন্তান ধারণের জন্য শারীরিক কাঠামো সঠিকভাবে গড়ে উঠার আগেই নারীরা সন্তান ধারণ করায় উন্নত দেশগুলোর তুলনায় এ দেশে সিজারিয়ান উপায়ে সন্তান প্রসব অনেক বেশি হয়ে থাকে। উন্নত দেশগুলোতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ সিজারিয়ান হলেও বাংলাদেশে তা ২৭ শতাংশ।


শিশু জন্ম দিতে গিয়ে যেসব মা মৃত্যুবরণ করেন তাদের ৩ ভাগের এক ভাগ মারা যান অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে। এছাড়া খিচুনির কারণে ২০ ভাগ মা সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় মারা যান।


কর্মশালায় বক্তারা নারী নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের শতকার ৮৭ ভাগ নারী কোনো না কোনোভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। সে কারণেও একজন সন্তানসম্ভবা নারী ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকেন। সঠিক পরিবার পরিকল্পনার মধ্যেমেই মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে পারা সম্ভব বলেও বক্তারা জানান।


কর্মশালা থেকে নগরীর সূর্যের হাসি ক্লিনিক পরিদর্শনে যান সাংবাদিকরা। সেখানে ওই ক্লিনিকের সেবা নিয়ে সার্বিক ধারনা নেন তারা।


নওদাপাড়া সূর্যের হাসি ক্লিনিকের চিকিতসক নাঈমা মুস্তারি জানান, হতদরিদ্র মানুষের কাছে মাতৃসেবা পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। অল্প খরচেই এ ক্লিনিকে মাতৃকালীন সেবা পাওয়া যায়।


কর্মশালায় শিশু ও মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ইউএসএইড এর চিফ অব পার্টি ডা. হালিদা এইচ আক্তার। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইউএসএইড এর প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট ডা. শামিনা চৌধুরী, ভয়েস অব আমেরিকা ওয়াশিংটন ডিসির আহসানুল হক।