কার্যকর চুক্তির ব্যাপারে আশা জোরালো হচ্ছে

প্যারিস জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন থেকে একটি কার্যকর চুক্তি পাওয়ার আশা আরো জোরালো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতৃত্বে ৭৯টি দেশ একসাথে হয়ে গত বুধবার চুক্তির পক্ষে তাদের জোরালো সমর্থন দেয়। বিষয়টি মাথায় রেখে অপর প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রও বসে থাকেনি। তারাও ইইউ’র সাথে যোগ দিয়ে একটি ‘উচ্চাশা জোট’ গঠন করেছে। উন্নত এবং উন্নয়নশীল মিলে মোট একশটিরও বেশি দেশ এখন জোটটির সদস্য। নরওয়ে, মেক্সিকো, কলম্বিয়া এ জোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এই জোট প্যারিস সম্মেলনের নির্ধারিত শেষ দিনে একটি কার্যকর চুক্তির প্রত্যাশা করছে।

 
এদিকে সম্মেলনের শেষদিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে চলে আসা মতবিরোধও কমে আসছে। মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের আগে ৪৮ পৃষ্ঠার যে খসড়া চুক্তি বের হয়েছিল তা এখন কমে ১৪ পৃষ্ঠায় এসেছে। খসড়া চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রায় নয়শ’ আপত্তি ছিল। গতকাল পর্যন্ত এ আপত্তির সংখ্যা তিনশ’তে নেমে এসেছে।
 
তবে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছার আগে আরো অনেক বিষয় মীমাংসা করতে হবে বলে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে চুক্তিতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি দুই না দেড় শতাংশে থাকবে সেটি এখনো বড় প্রশ্ন। আবার তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি বা দেড় ডিগ্রিতে সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়টি মীমাংসা হলেও তা কখন এবং কীভাবে হবে কিংবা কোন দেশ কত হারে দূষণ কমাবে তারও ফয়সালা করতে হবে।
 
জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টিও চুক্তির পথে বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় কপ-২১ এর প্রেসিডেন্ট লরেন্ট ফ্যাবিউস হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তবে ১৪ পৃষ্ঠার যে খসড়া তাতে ২০২০ সালের পর থেকে জলবায়ু তহবিলে প্রতি বছর একশ’ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলো ২০২০ সালের পরে আরো বেশি অর্থ চাচ্ছে। এ ছাড়া তারা এ অর্থ ঋণের পরিবর্তে অনুদান দেয়ার দাবি জানাচ্ছে। জলবায়ুর ক্ষতি পরিমাপের প্রক্রিয়া কী হবে সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলছে কেউ কেউ। সম্মেলন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অর্থের বিষয়টি ফয়সালা হলে চুক্তির দরজাও খুলে যাবে।
 
আজ শুক্রবার সম্মেলনের শেষদিন। এর আগে দেশগুলোকে একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট ফ্যাবিউস আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সম্মেলন স্থল থেকে যে আভাস মিলছে তাতে মনে হয়, সম্মেলনের মেয়াদ একদিন বাড়তে পারে।  
 
বিবিসি জানিয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো বলছে, চুক্তিতে যেসব প্রস্তাব করা হচ্ছে তাতে ধনী দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে নিজেদের দায়ভার এড়িয়ে যেতে পারবে। সম্মেলনে ধনী ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বড় ধরনের বিভেদ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সম্মেলনের লক্ষ্য সফল হওয়ার বিষয়ে তিনি এখনো আশাবাদী। কিন্তু সম্মেলন শেষ হওয়ার আগে এ নিয়ে আরো কাজ করতে হবে।
 
উন্নয়নশীল দেশগুলো বলছে, চুক্তিতে যেসব প্রস্তাব করা হচ্ছে তাতে ধনী দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিজেদের দায়ভার এড়িয়ে যেতে সক্ষম হবে। কিন্তু তার ফল বইতে হবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকেই।
 
অন্য কয়েকটি দেশ বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের ব্যাপারে একটি পরিষ্কার সংকেত যদি খসড়া চুক্তিতে না থাকে তবে শেষ বিচারে এ সম্মেলন ব্যর্থ হবে। তবে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, একটি সফল চুক্তিতে উপনীত হওয়ার ব্যাপারে তিনি এখনো আশাবাদী।
 

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ বলেছেন, বিভিন্ন ইস্যুতে মতভেদ থাকলেও, সেসব নিয়ে কাজ করার এবং ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য এখনো সময় আছে।