আজ ভারতের কিংবদন্তি অভিনেতা রজনীকান্তের জন্মদিন, ৬৫ বছরে পা দিয়েছেন এই অভিনেতা। আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার এই অভিনেতার জন্ম ১২ ডিসেম্বর, ১৯৫০।
শিবাজি রাও নামের এই অভিনেতার চলচ্চিত্র জগতে আসেন রজনীকান্ত নাম নিয়ে। তার অভিষেক হয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত তামিল সিনেমা ‘অপূর্ব রাগাঙ্গাল’ (১৯৭৫) এ অভিনয়ের মাধ্যমে, এই সিনেমার পরিচালক কে.বলচন্দ্র, যার উপদেশে তিনি সিনেমাতে অভিনয় করেন। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্রসহ অন্যান্য দেশের সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন।
ভারতীয় শহর বেঙ্গালুরুতে বেড়ে উঠেন, রজনীকান্ত অসচ্ছল জীবনের সাথে লড়াই করে কাটিয়েছেন তার শৈশব। বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের বাসের সহকারী হিসেবে কাজ করা অবস্থায় তিনি নাটকে অভিনয় করতেন। তিনি ১৯৭৩ সালে মাদ্রাজ আসেন ‘মাদ্রাজ ফিল্ম ইন্সটিটিউট’ থেকে অভিনয়ের উপর ডিপ্লোমা পড়ার জন্য। তামিল চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে করতে রজনীকান্ত একসময় অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে, ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে তিনি 'অভিনয় দেবতা' হিসেবে জনপ্রিয় হন।
IMG0
সিনেমায় তার আচরণ এবং সংলাপের ধরন তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। 'শিবাজী' সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি ২৬০ মিলিয়ন (মার্কিন ডলার ৫.১৯ মিলিয়ন) সম্মানী নেওয়ার পর তিনি জ্যাকি চ্যানের পর এশিয়ার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক গ্রহণকারী তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ২০১৩ সালে, তিনি ছয়টি ‘তামিলনাডু স্টেট চলচ্চিত্র পুরস্কার’ অর্জন করেন। যার মধ্যে চারটি সেরা অভিনেতা এবং বাকি দুইটি সেরা অভিনেতা হিসেবে বিশেষ পুরস্কার এবং ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতা পুরস্কার – তামিল। তিনি ভারতের তৃতীয় বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ অর্জন করেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি, তিনি একজন স্বেচ্ছাসেবী, উৎসাহদাতা। রজনীকান্তকে তার সময়ে গণমাধ্যমে সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে স্বীকৃত দেওয়া হয়।
অনেকে তার জনপ্রিয়তার কারণ হিসেবে, তার জীবনের চেয়ে বড় সুপার হিরো ভূমিকায় বিভিন্ন চলচ্চিত্রে আবির্ভাব এবং অন্যরকম স্টাইলের অভিনয়কে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
প্রায় প্রত্যেকটি সিনেমায় রজনীকান্তের জনপ্রিয় স্টাইল বিদ্যমান যা অন্যান্য নায়কদের জন্য একটি বার্তা রেখে যায়। তার সংলাপগুলো সাধারণত তৈরী হত, নতুনত্বকে সৃষ্টি করার জন্যে, বা দর্শকদের হাসানো জন্য, কিন্তু এইসব সংলাপ দর্শকদের মনোরঞ্জনে কোনসময় বিফলে যেত না। প্রিয়.কম।