জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন শনিবার বলেছেন, ‘যে গ্রহটিতে আমরা বাস করি সেটিকে আমাদের অবশ্যই রক্ষা করতে হবে’। চলমান প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের ১৯৫টি দেশের কুটনৈতিকরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ইস্যুতে একটি খসড়া পরিকল্পনায় একমত হওয়ার পর বান কি মুন এ কথা বলেন।
কয়েক বছরের প্রস্তুতি এবং প্রায় এক মাসের আলোচনার পর শনিবার বিশ্ব নেতারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে একটি সমঝোতায় উপনীত হয়েছেন। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রী একে একটি ‘সুন্দর ও আইনী বাধ্যবাধকতা সম্পন্ন’ সমঝোতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ওই খসড়া পরিকল্পনায় বিশ্ব তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক শিল্প যুগের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও তা ১.৫ ডিগ্রি নির্ধারণের দাবি উঠেছিল।
পরিকল্পনাটি ইতোমধ্যেই ১৯৫ দেশের মন্ত্রীদের অনুমোদনের জন্য সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে। শনিবার রাতের মধ্যেই মন্ত্রীদেরকে এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে হবে।
IMG0
এই প্রস্তাবনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ২০২০ সাল থেকে বছরে ১০ হাজার কোটি ডলারের আর্থিক অনুদানের বিষয়টিরও উল্লেখ করা হয়। ২০২৫ সালের মধ্যে অর্থের অঙ্কটি আরো বাড়ানো হবে।
তবে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি আইনী বাধ্যবাধকতাপূর্ণ হবে কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর্থিক সহায়তার ব্যাপারে আইনী বাধ্যবাধকতা আরোপের বিরোধীতা করে আসছিল।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্ব নেতারা যদি শিগগিরই একটি চুড়ান্ত সমঝোতায় না পৌঁছায় তাহলে এর ফলাফল হবে ভয়াবহ। যার পরিণতিতে তীব্র খরা, প্রাণঘাতি তাপ প্রবাহ, উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের গণ বিলুপ্তি, প্রলয়ঙ্করী বন্যা এবং সমুদ্রের উচ্চতা অস্বাভাবিকহারে বেড়ে গিয়ে পৃথীবির মানচিত্র থেকে দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসবে।
তবে বিজ্ঞানীদের মতে, বিশ্ব জলবায়ু রক্ষার একমাত্র কার্যকর উপায় হল জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা। অথচ এই প্রস্তাবে শুধু কার্বন নিঃসরন কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
আজকের উপস্থাপিত খসড়া পরিকল্পনার ব্যাপারে যেসব দেশ একমত হবে তাদের প্রত্যেককেই পরবর্তীতে পরিকল্পনাটি নিজ দেশেও জাতীয়ভাবে অনুমোদিত করাতে হবে।