সৌদি আরবের মিউনিসিপিল্যাটি নির্বাচনে ২০ জন নারীকে নির্বাচিত করেছে। গত শনিবার ইতিহাসের প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও ভোট প্রদান করে।
দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে পবিত্র মক্কা-মদিনা নগরীতেও নারীরা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। ২০ জন নারী যদিও ২১০০ নির্বাচিত কাউন্সিলরের এক শতাংশেরও কম, তারপরেও রক্ষণশীল এই দেশে এটাকে এগিয়ে যাওয়ার একটা দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে কখনো নারীদের নির্বাচনে অংশ নেয়া দুরের থাক ভোটও দিতে দেয়া হয়নি।
যদিও নারীরা এখনো অভিভাবক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং পুরুষরাই তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের নিয়ন্তা। নারীদের জন্য কোনো সংরক্ষিত আসন না থাকলেও সৌদি বাদশাহ অতিরিক্ত ১০৫০ টি কাউন্সিলর আসন বৃদ্ধি করে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবে শুধুমাত্র মিউনিসিপালিটি কাউন্সিলই সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়। এই নির্বাচনে ৭০০০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন যার মধ্যে ৯৭৯ জন নারী। এর আগের ২০০৫ ও ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি শুধু পুরুষদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। সৌদি আরবের রক্ষণশীল রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি চারজন নারী প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে শিয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে দুইজন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও সবচেয়ে বেশি কসমোপলিটান নগরে দুইজন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। আর সবচেয়ে বেশি রক্ষণশীল কাসিম শহরেও একজন নারী নির্বাচিত হয়েছেন।
পবিত্র কাবা শরীফের নগর মক্কার মেয়র ওসামা আল বার এপিকে জানিয়েছেন, সেখানের মাদ্রাকাহ গ্রামে একজন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। হজরত মোহাম্মদ (দ) এর স্মৃতিবিজড়িত মদিনা শহরেও একজন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। বাকিদের মধ্যে তাবুক শহরে দুইজন, আল জওফে একজন এবং একজন জিতেছেন হাইলে। সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তের জিজান অঞ্চলে একজন , আসিরে একজন এবং দুইজন জিতেছেন আল আহসাতে।
বেশির ভাগ নারী প্রতিনিধিরা কর্মজীবী নারীদের জন্য আরো ডে কেয়ার সেন্টারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এছাড়া তরুণদের জন্য কমিউনিটি সেন্টার যেখানে খেলাধুলা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে এবং আরো পরিষ্কার শহরের প্রতিশ্রুতি।
সৌদি গেজেট গত অক্টোবরে এক প্রতিবেদনে বলেছিল, মাদ্রাকাহ এলাকায় সড়কের খারাপ অবস্থা ও নিকটস্থ হাসপাতালের সঙ্গে দূরত্বের কারণে বেশ কয়েকজন নারী গাড়িতেই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এই এলাকাতে বেশ কয়েকজন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে ক্লাসে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। ওই গ্রামে পার্ক নেই বলে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন বাসিন্দারা।
নির্বাচিত নারীরা এই ধরণের সমস্যাগুলোই সমাধান করার চেষ্টা করবেন। যদিও মিউনিসিপালিটি কাউন্সিলের তেমন কোনো ক্ষমতা নেই তবে তারা কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারবে এবং স্থানীয় বাজেটের সঠিক ব্যবহারটা নিশ্চিত করতে পারবে।
বেশিরভাগ নারীই তাদের নির্বাচনী প্রচারণা অনলাইনে পরিচালনা করেছেন। জনসম্মুখে নারী-পুরুষ পাশাপাশি থাকার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিপরীত লিঙ্গের ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন না। নির্বাচনে সমতা তৈরির প্রচেষ্টায় জেনারেল ইলেকশন কমিটি নারী ও পুরুষ উভয়ের মুখ নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। অর্থাৎ হিজাবে মুখ ঢাকা নারীর মতো পুরুষরাও নির্বাচনী বিলবোর্ডে-অনলাইনে নিজের চেহারা ব্যবহার করতে পারবেন না। টেলিভিশনেও তাদের চেহারা দেখানোর বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
নিবন্ধিত ১৩০,০০০ নারীর মধ্যে ১০৬,০০০ জনই ভোট দিয়েছেন। যেখানে প্রায় ১৩ লক্ষ পুরুষ ভোটারদের মধ্যে মাত্র ৬ লাখ পুরুষ ভোট দিয়েছেন। সব মিলিয়ে শনিবার নির্বাচনে ৪৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। জেদ্দায় তিন প্রজন্মের নারীরা প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন। সবচেয়ে বয়স্ক নায়েলা মোহাম্মদ নাসিয়েফ ও তার কন্যা সাহার হোসেন নাসিয়েফ। প্রথমবারের মতো ভোট দিয়ে উচ্ছ্বসিত সাহার হোসেন বলেন, মা এই নির্বাচনকে নারীদের আরো বেশি অধিকার অর্জনের শুরুর পথ বলে মনে করছেন। ব্যালট বাক্সের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, আমি এটি আগে কখনো দেখিনি, শুধু সিনেমাতে দেখেছি। এটা ছিল দারুণ একটা অভিজ্ঞতা। টাইমস।